প্রস্টেট কোষ ক্যানসারে রূপ নিচ্ছে কিনা আগেই নির্ণয় হবে, আসছে নির্ভুল পদ্ধতি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্টেটের সাধারণ রোগ আর ক্যানসার এক বিষয় নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া বা প্রস্টেটাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যার আড়ালে কখনো কখনো প্রস্টেট ক্যানসারও লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুরুতেই ক্যানসার শনাক্ত করা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্টেট ক্যানসারের অন্যতম বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে, শরীরে ক্যানসারের কোষ তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিন্তু তখন অনেক ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে নতুন একটি স্ক্যানিং পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রস্টেটে ক্যানসারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত কোষের পরিবর্তন ও বিভাজন আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
মেলবোর্নের পিটার ম্যাককালাম ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা এই নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এটি অনেকটা সিটি স্ক্যানের মতো কাজ করবে। স্ক্যানের সময় ব্যবহৃত বিশেষ মার্কারের সংস্পর্শে ক্যানসার কোষ দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে প্রস্টেট বা এর আশপাশে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি এবং সেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে প্রস্টেট ক্যানসার শনাক্তে বায়োপসি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। এতে প্রস্টেট থেকে সামান্য টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। তবে প্রস্টেটের সব অংশ থেকে নমুনা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কখনো কখনো ক্যানসার কোষ শনাক্ত নাও হতে পারে।
গবেষকদের দাবি, নতুন পিএসএমএ পিইটি স্ক্যান এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে পারে। এতে শুধু নির্দিষ্ট একটি অংশের কোষ পরীক্ষা না করে পুরো প্রস্টেট ও আশপাশের অঞ্চলের চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে ক্যানসারের সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা বর্তমানে পদ্ধতিটি নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন এবং মানুষের শরীরেও এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গবেষকদের মতে, প্রস্টেট ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং এখনো অনেক দেশে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়। নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। এতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পাশাপাশি রোগীদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

