অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী, কেন হয়, কারণ-লক্ষণ ও চিকিৎসা
শারমিন হোসেন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অস্টিওআর্থ্রাইটিস একটি ডিজেনারেটিভ জয়েন্ট রোগ, যা ধীরে ধীরে জয়েন্টের তরুণাস্থি ক্ষয় করে। এর ফলে ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো আর্থ্রাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন, যা বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে সাধারণত মেরুদণ্ড, নিতম্ব, পিঠ ও হাঁটুর জয়েন্টে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। পুরুষের তুলনায় নারীদের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
কারণ
যেহেতু এটি একটি ডিজেনারেটিভ রোগ, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বেশি দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যবয়সিদের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। খেলাধুলাজনিত আঘাতও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণ হতে পারে। যেমন—লিগামেন্টের আঘাত বা এসিএল ইনজুরি।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফ্র্যাকচার বা জয়েন্ট ডিসলোকেশন হলেও পরবর্তী সময়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণেও এ রোগ হতে পারে। আবার যাদের আগে থেকেই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (আরএ) বা গাউট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
লক্ষণ
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলো সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলো হলো—
১. আক্রান্ত জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া
২. জয়েন্টে ফোলাভাব ও লালচে ভাব দেখা দেওয়া
৩. হাড়ের স্পার তৈরি হওয়া
৪. জয়েন্টে ঘর্ষণ বা ‘গ্রেটিং’ অনুভূতি হওয়া
৫. জয়েন্টের বিকৃতি বা ডিফরমিটি
৬. জয়েন্টের নমনীয়তা কমে যাওয়া
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন
নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
১. জয়েন্টে হাড়ের স্পার থাকলে
২. মিসঅ্যালাইনমেন্ট বা বিকৃতি দেখা দিলে
৩. জয়েন্ট নড়াচড়ার সময় ক্র্যাকিং বা পপিং শব্দ হলে
৪. জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও লকিং হলে
চিকিৎসা
বর্তমানে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর ব্যথার কারণ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
ফিজিওথেরাপিতে মায়োফ্যাসিয়াল রিলিজ (এমএফআর), বিভিন্ন ফিজিক্যাল এজেন্ট, ট্যাপিং, ম্যানিপুলেশন ও মাসল এনার্জি টেকনিকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড, আইএফটি ও টিইএনএসের মতো বিভিন্ন ইলেক্ট্রোথেরাপিও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী হিট ও কোল্ড থেরাপিও দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করানো হয়, যা পেশির টান ও শক্তভাব কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ দুর্বল পেশিগুলোকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, আক্রান্ত জয়েন্ট, ব্যথার মাত্রা ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা উচিত।
শারমিন হোসেন (পিটি)
ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্ট
আলোক মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা


-6a95fe3a25211.jpg)