বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের শরীরে যেসব জটিলতা দেখা দেয়, খাবার কেমন হবে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়ঃসন্ধিকাল হলো শিশুর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার একটি স্বাভাবিক জৈবিক, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সময়। বয়ঃসন্ধিকাল মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮-১৩ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ৯-১৪ বছর বয়স ধরা হয়।
এসময় দ্রুত উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পায়, মেয়েদের শারীরিক নানারকম পরিবর্তন আসে। ছেলেদের কণ্ঠস্বর ভারি হয়। তাই এ সময় পুষ্টির ঘাটতিও বেশি দেখা যায়। কাজেই বয়ঃসন্ধিকালে খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বয়সন্ধিকালে শারীরিক জটিলতা
নিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে এ সময় কিশোরীদের শরীরে আয়রনের চাহিদা বেশি থাকে। আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়। ফলে শরীর সবসময় দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। কৈশোরে হাড়ের গঠন মজবুত হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ঠিকমতো না পেলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া ভিটামিন এ, বি ও জিঙ্কের অভাবে ত্বক ও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখের কোণে ঘা হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা ইনফেকশন হয়।
যেসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি
বয়ঃসন্ধিকালে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব পড়লে সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাই তাদের পছন্দের খাবারকে যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যকর করে বাড়িতেই তৈরি করে দিতে হবে—
- বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের মুখে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়। ব্রণের আক্রমণ ঠেকাতে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।
- শাক সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
- উচ্চ শর্করা জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। কোমল পানীয়, চকলেট, আইসক্রিম ও তেলের জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- এ সময় মেয়েদের নিয়মিত মাসিক হয়। ফলে শরীরে রক্তশূন্যতা হতে পারে। খাদ্যতালিকায় অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে।
- বয়ঃসন্ধিকালে দ্রুত ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। এটি এড়াতে ফাস্টফুড, কেক পেস্ট্রি পরিহার করতে হবে।
- আয়রনসমৃদ্ধ খাবার— কলিজা, কচুশাক, ডিম, ডাল, খেজুর ও কিশমিশ রক্তস্বল্পতা রোধ করে, যা মেয়েদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন।
১৮-২১ বছরের মধ্যে হাড়ের ঘনত্ব সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। এরপর আর বাড়ে না। তাই বোন ডেনসিটি বাড়াতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেতে হবে। দুধ, দই, পনির এবং কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
প্রতিদিন তাজা ফল এবং সবুজ শাকসবজি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ফাইবারের চাহিদা মেটায়।
খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবারের সদস্যদের উচিত তাদের সঙ্গ দেওয়া। তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সহজ করে দেওয়া। এতে মনের ভার যেমন কমবে, তেমনি নিজের প্রতিও যত্নশীল হবে।
