কালো দুধ পান করা কতটা উপকারী
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাধারণ দুধ খেতে ভালো লাগে না। তবে ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ বা কালো দুধ পান করা কতটা উপকারী। এই পানীয় তৈরি করতে বিশেষ কোনো উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা কালো তিল, কাজুবাদাম আর খেজুর দিয়েই সহজে বানিয়ে ফেলা যায় এটি।
সম্প্রতি এই পানীয় নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। কালো তিলের কারণে পানীয়টির রং হয় গাঢ়। আর সেই অদ্ভুত রং দেখেই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে-কালো দুধ কি সত্যিই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে পারে? কী কী উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় এই পানীয়?
জেনে নিন বাড়িতে বানানোর সহজ উপায়
এই পানীয় তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে থাকা কয়েকটি জিনিস দিয়েই কাজ হয়ে যাবে।
প্রথমে কালো তিল ১ বাটি শুকনো কড়াইয়ে হালকা করে ভেজে নিন। তিল থেকে সুগন্ধ বের শুরু করলে চুলা বন্ধ করে দিন। বেশিক্ষণ ভাজলে তিল পুড়ে গিয়ে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। এবার ব্লেন্ডারে ভাজা তিল, কাজুবাদাম ১ বাটি, খেজুর ৬-৭টি দিয়ে দিন। সামান্য লবণ ও প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে সব উপকরণ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।
মিশ্রণটি মিহি হয়ে এলে একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে তরল অংশ আলাদা করে নিন। তৈরি আপনার কালো দুধ। চাইলে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন। তবে পানীয়টি তৈরি করার সময় নিজের পছন্দমতো পানির পরিমাণ কমবেশি করে নিতে পারেন। ছেঁকে নেওয়া মিশ্রণ ফেলে দেবেন না
কালো দুধ ছেঁকে নেওয়ার পরে যে তিল ও বাদামের অবশিষ্ট অংশ পড়ে থাকবে, তা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নার কোনো পদে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তিল কাজুবাদামে অ্যালার্জি থাকলে এই মিশ্রণ ত্বকে ব্যবহার করবেন না। নতুন কোনও উপাদান মুখে লাগানোর আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।
কালো দুধ খেলে কি সত্যিই ত্বক চকচকে হয়?
কালো দুধের উপকরণগুলিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি রয়েছে। তবে এই পানীয় খেলেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বেড়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ত্বক ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম এবং সঠিক ত্বকচর্চার ভূমিকা অনেক বেশি।
কালো তিলে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার এবং ক্যালশিয়াম, আয়রনের মতো খনিজ। পাশাপাশি এতে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদানও থাকে। এই পুষ্টিগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিল খেলেই ত্বকের রং বা বদলে যাবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
কাজুবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, কপার, জিঙ্ক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে বাদাম শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে কাজুবাদামে অ্যালার্জি থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলুন।
খেজুর প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার এবং বিভিন্ন খনিজের উৎস। পানীয়টিতে খেজুর ব্যবহার করলে আলাদা করে চিনি না দিয়েও মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। তবে খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
