Logo
Logo
×
   

Advertisement

ডাক্তার আছেন

কলেরা হলে কী করবেন, জানুন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

কলেরা হলে কী করবেন, জানুন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফাইল ছবি

Advertisement

দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগগুলোর মধ্যে কলেরা অন্যতম। এ রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা। সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে কলেরা সুস্থ-সবল মানুষের জন্যও প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে এটি সহজে চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। দ্রুত শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারলে গুরুতর পানিশূন্যতাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কলেরা কী?

কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা মূলত দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। কলেরার প্রধান কারণ ‘ভিব্রিও কলেরি’ নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষুদ্রান্ত্রে অবস্থান করে এবং এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ওই বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের করে দেয়। ফলে দ্রুত ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা দেখা দেয়।

দূষিত পানির পাশাপাশি অপরিষ্কার পরিবেশ, কাঁচা বা অপরিষ্কার সামুদ্রিক খাবার এবং দূষিত এলাকায় উৎপাদিত কাঁচা ফল ও শাকসবজি থেকেও কলেরার জীবাণু ছড়াতে পারে। কলেরাপ্রবণ এলাকায় রান্নার পরও খাবার দূষিত হতে পারে।

বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে গুরুতর উপসর্গ দেখা যায় না। অনেকে সংক্রমিত হলেও বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে তারা ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত মলের মাধ্যমে কলেরার জীবাণু ছড়াতে পারেন। এর মাধ্যমে পানি দূষিত হয়ে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হালকা বা মাঝারি মাত্রার ডায়রিয়া দেখা দেয়।

কলেরার লক্ষণ

কলেরার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ শুরু হওয়া ডায়রিয়া। এতে দ্রুত প্রচুর পরিমাণে তরল শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। কলেরার ডায়রিয়াকে অনেক সময় ফ্যাকাশে বা দুধের মতো এবং ধোয়া চালের পানির মতো দেখা যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ে বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুরুতর পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, শুষ্ক মুখ, অবসাদ, চোখ বসে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও কুঁচকে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, নিম্ন রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন।

শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে জ্বর, খিঁচুনি, অতিরিক্ত তন্দ্রা ও অচেতনতার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসা নিতে হবে?

তীব্র ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে গুরুতর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

চরম ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা ও শকের কারণে মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, পটাশিয়ামের ঘাটতি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

কলেরার চিকিৎসা

কলেরার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি ও ইলেকট্রোলাইট দ্রুত পূরণ করা। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট বা ওআরএস দেওয়া হয়। গুরুতর পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে শিরায় তরল দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকও চিকিৎসক দিতে পারেন।

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ

কলেরা প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত বা ফুটানো পানি পান করা, পানীয়তে বরফ ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং দুধ ফুটিয়ে পান করা জরুরি। ভালোভাবে রান্না করা ও গরম খাবার খেতে হবে। কাঁচা ফল, শাকসবজি, মাছ বা মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

কলেরা নিয়ন্ত্রণে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। দূষিত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কলেরার টিকা নেওয়া যেতে পারে। আক্রান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল ও খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ নন এমন ব্যক্তিদের ব্যাপকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম