শিশুদেরও হার্ট অ্যাটাক হয়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশুদেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে তা অত্যন্ত বিরল। আর বড়দের ক্ষেত্রে যে কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়, শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সেই কারণটি কাজ করে না।
বড়দের সঙ্গে তফাত কোথায়?
হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হয় যখন হৃদ্যন্ত্রের কোনও অংশে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে প্লাক তৈরি হওয়া এবং সেখানে রক্তের জমাট বাঁধা অন্যতম প্রধান কারণ।
শিশুদের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে এমন প্লাক জমে ধমনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই কোনও শিশুর ক্ষেত্রে এমন গুরুতর কার্ডিয়াক ঘটনা ঘটলে জন্মগত সমস্যা, হৃদ্যন্ত্রের প্রদাহ, জিনগত অসুখ বা অন্য কোনও অন্তর্নিহিত কারণ খতিয়ে দেখা হয়।
জন্মগত সমস্যাও হতে পারে কারণ
কিছু শিশুর জন্ম থেকেই করোনারি ধমনির গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। এই ধমনিগুলিই হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছে দেয়। গঠনের সমস্যা থাকলে কখনও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হৃদ্স্পন্দনে সমস্যা বা আচমকা হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মায়োকার্ডাইটিস, অর্থাৎ, হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে প্রদাহ। অনেক সময় ভাইরাস-সহ বিভিন্ন সংক্রমণের পর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে।
এ ছাড়াও কিছু জিনগত হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা, হৃদ্পেশির রোগ, কাওয়াসাকি ডিজিজ, রক্ত জমাট বাঁধার কিছু সমস্যা এবং বিরল কিছু গুরুতর কোলেস্টেরলজনিত অসুখ শিশুদের কার্ডিয়াক বিপদের কারণ হতে পারে।
আচমকা অজ্ঞান মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়
এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়। হার্ট অ্যাটাকে হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছনোর সমস্যা হয়। আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। হার্ট অ্যাটাক থেকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে, কিন্তু সব কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হার্ট অ্যাটাক নয়।
শিশু আচমকা মাটিতে পড়ে গেলে বা জ্ঞান হারালে তাই শুধু ‘হার্ট অ্যাটাক’ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অস্বাভাবিক হৃদ্স্পন্দন, জন্মগত হৃদ্রোগ বা অন্য কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যাও এর নেপথ্যে থাকতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি অবহেলা নয়?
খেলাধুলা বা দৌড়নোর সময় বারবার বুকে ব্যথা, কারণ ছাড়াই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পরিশ্রমে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, হৃদ্স্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে সাধারণ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। পরিবারের কারও অল্প বয়সে বা কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আচমকা মৃত্যুর ইতিহাস থাকলেও শিশুর হৃদ্যন্ত্রের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
