মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার
Advertisement
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় তিন দিনব্যাপী এ আলোচনা চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাড়ানো এবং পারস্পরিক বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। উপপ্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব। এরই মধ্যে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। প্রথম দফার আলোচনায় এসব প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সরকারপ্রধানের পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এফটিএর আওতায় দুই দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা, পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে শুল্ক ও অন্যান্য বাধা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। কোন দেশ অপর দেশকে কী ধরনের সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো, নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
এফটিএ আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য, পণ্যভিত্তিক রপ্তানি-আমদানির চিত্র এবং বাজারে প্রবেশের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি ডলার।
তবে রপ্তানি ও আমদানির পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধান থাকায় হিসাবকাল, পণ্য শ্রেণিবিন্যাস এবং তথ্যের উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। চূড়ান্ত আলোচনায় দুই দেশের প্রকৃত বাণিজ্যচিত্র, শুল্ক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশের শর্ত পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এফটিএ কার্যকর হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে আলোচনায় নির্ধারিত শর্ত, পণ্যের তালিকা, শুল্কসুবিধা এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্যের ওপর।

