মানচিত্রে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান দেখাবে বিবিএস
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের কোথায় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কোন এলাকায় কোন খাতের শিল্পের ঘনত্ব বেশি কিংবা কোথায় কম—এসব তথ্য এবার মানচিত্রে দেখা যাবে। শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থানভিত্তিক তথ্য নিয়ে এমন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার’ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে এ তথ্য জানান প্রকল্পের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক ড. দীপংকর রায়।
তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ও নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য ব্যবসা নিবন্ধন তৈরি করা হচ্ছে। শুরুতে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির ও অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসবে।
এই নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হবে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট শিল্প খাত নির্বাচন করলে কোন জেলা বা অঞ্চলে ওই খাতের প্রতিষ্ঠান বেশি, কোথায় কম—তা মানচিত্রে দেখা যাবে। নদীকেন্দ্রিক শিল্পের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো নদীর কাছাকাছি রয়েছে কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
ড. দীপংকর রায় বলেন, এসব তথ্য শিল্প ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় কাজে লাগবে। কোনো এলাকায় শিল্পের ঘনত্ব বেশি হলে সড়ক, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা নির্ধারণে সহায়তা করবে। একইভাবে শিল্পের আঞ্চলিক বৈষম্যও চিহ্নিত করা যাবে।
ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অধীনে কতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেগুলো কোন কোন খাতে কাজ করছে, সেই তথ্যও নিবন্ধনে রাখা হবে। ফলে শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসার পরিধি সম্পর্কে নিবন্ধিত তথ্য পাওয়া যাবে।
বিবিএস ইতোমধ্যে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একীভূত করার কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তথ্য দেখানোর জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এর কার্যকর সংস্করণ চালুর আশা করছে বিবিএস।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে দেশে অর্থনৈতিক এককের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ। ২০১৩ সালে ছিল প্রায় ৭৮ লাখ। এক দশকে সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থনৈতিক একক এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে।
নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের চালু, সাময়িক বন্ধ বা পুরোপুরি বন্ধ থাকার তথ্যের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউনিক পরিচিতি নম্বর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিবন্ধন ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
