Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি অভিনেতা মোহাম্মদ বাকরি আর নেই

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৫ পিএম

ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি অভিনেতা মোহাম্মদ বাকরি আর নেই

অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ বাকরি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ বাকরি ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ৭২ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রয়াত এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার ছেলে, জনপ্রিয় অভিনেতা সালেহ বাকরি। পরে ফিলিস্তিনের নিজ গ্রামেই তাকে দাফন করা হয়।

থিয়েটার থেকে বিশ্ব সিনেমায় যাত্রা

১৯৫৩ সালে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ বাকরি আশির দশকে থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন। ফিলিস্তিনি নাগরিক হয়েও তিনি আরবি ও হিব্রু—দুই ভাষাতেই সমান দক্ষ ছিলেন, যা তাকে বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়।

অস্কারজয়ী গ্রিক-ফরাসি পরিচালক কস্তা-গাভরাসের চলচ্চিত্র ‘হানা কে’–এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর খুব অল্প সময়েই তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

‘বিয়ন্ড দ্য ওয়ালস’ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বিয়ন্ড দ্য ওয়ালস’ সিনেমায় এক ফিলিস্তিনি কয়েদির চরিত্রে অভিনয় করে মোহাম্মদ বাকরি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের (অস্কার) জন্য মনোনীত হয়েছিল, যা তার অভিনয়জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাহসী নির্মাতা ও বিতর্কিত কণ্ঠস্বর

মোহাম্মদ বাকরি শুধু অভিনেতা নন, বরং একজন প্রতিবাদী ও সাহসী চলচ্চিত্র নির্মাতাও ছিলেন। ২০০২ সালে তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘জেনিন, জেনিন’ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরায় ইসরাইল সরকার সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে।

ফিলিস্তিনি শিল্পী হিসেবে তার অবস্থান ও স্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ইসরাইলি মহলের নানা চাপ ও হুমকির মুখে ছিলেন।

এক বিদায়, রেখে গেলেন প্রতিরোধের শিল্প

মোহাম্মদ বাকরির মৃত্যু শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়—এটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধী শিল্পচর্চার এক উজ্জ্বল কণ্ঠের নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া। অভিনয় ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নিপীড়িত মানুষের কথা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন সাহস ও সততার সঙ্গে। তার কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম