Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

আমরা ‘বাহুবলী’ তৈরি করতে পারব না, কিন্তু একটা ‘চোখের বালি’ বানাতে পারি: প্রসেনজিৎ

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

আমরা ‘বাহুবলী’ তৈরি করতে পারব না, কিন্তু একটা ‘চোখের বালি’ বানাতে পারি: প্রসেনজিৎ

Advertisement

টালিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়ার হাউস। জীবন্ত কিংবদন্তি—  সিনেমা না দেখে আজও ঘুমাতে যান না। নতুন অভিনেতাদের কাজ দেখে শিখে নেন অভিনয়ের নতুন ভাষা। স্বপ্ন দেখেন বাংলা সিনেমার ছোটপাড়া থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে উড়ান, কখনো থামবে না। বিশ্বাস করেন— ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থ সবার উপরে, তাহার উপরে নাই। আরও অনেক বিশেষণ উল্লেখ করা যেতে পারে বুম্বাদাখ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে কথা বললেন অভিনেতা।

অভিনয়ের বাইরে আর কী করতে ভালোবাসেন প্রসেনজিৎ? এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, একটা জিনিস আমি করতে খুব ভালোবাসি, সেটি হলো এক্সারসাইজ। দিনে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা এক্সারসাইজ করি। তিনি বলেন, ওটা আমার মানসিক চাপ কমায়। যে ভাবনাগুলো সারাক্ষণ চলে, সেটি তখন সরে যায়। আমার একটা রুটিন চলে। সপ্তাহে সাত দিনও এক্সারসাইজ করি। রাত ১২টায়ও অনেক সময় আমি জিমে চলে যাই। কারণ সকালে বেরোনোর থাকে।

বুম্বাদা বলেন, আর জিমে যে গান চলে সেই গান শুনি না, পুরোনো দিনের গান শুনতে শুনতে জিম করি। মোহম্মদ রফি শুনি, কিশোর কুমার শুনি। আবার হেমন্ত জেঠুর (হেমন্ত মুখোপাধ্যায়) গান, শ্যামল জেঠুর (শ্যামল মিত্র) গানও আমার প্লে-লিস্টে থাকে। আর আমার ছেলে জিম করছে কিনা, সেটা পাড়ার লোকেরাও জানে।

বই পড়তে খুব ভালোবাসেন প্রসেনজিৎ। তবে বইয়ের থেকে বেশি চিত্রনাট্য পড়তে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। অবশ্যই সফট কপিও থাকে, কিন্তু আইপ্যাড বা ল্যাপটপে আমি চিত্রনাট্য পড়তে পারি না। আসলে ওই কাগজের গন্ধ না পেলে চিত্রনাট্য পড়ছি বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, আমি সিনেমা না দেখে ঘুমাতে পারি না। আমার চোখটা জুড়ে আসে সিনেমা দেখতে দেখতে। মিশুক যখন হয়নি, তখন টিভি চালাতে পারতাম না। অনিল কাপুরের কাছ থেকে একটা ছোট্ট জিনিস দেখেছিলাম, যেটায় সিডি দিয়ে সিনেমা দেখা যেত। তখন কম্বলের তলায় লুকিয়ে ওটার মধ্যে করে সিনেমা দেখতাম, যাতে অর্পিতার বিরক্তি না হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে একটা সময় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন, কেন? উত্তরে অভিনেতা বলেন, আসলে আমরা অভিনেতারা সময়ের সঙ্গে, বয়সের সঙ্গে পরিণত হই। তার মধ্যে নিজের জীবনের সফরগুলোও আছে। ভাঙা, ওঠা, নিজের জীবনবোধগুলোও আছে। যেমন আমিও দুই বছর নিজেকে বন্দি করে নিয়েছিলাম। আসলে অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের ক্ষেত্রেই কাজে লাগে।

প্রসেনজিৎ পূজার সময়ে আলাদা করে কিছু করেন কিনা? তিনি বলেন, আমি সিরিজ করে সিনেমা দেখি। টানা সাত দিন উত্তম কুমারের সিনেমা দেখলাম। আবার হয়ত তপন সিনহার তৈরি সিনেমা দেখলাম। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কাজ আবার টানা দেখলাম।

তিনি আরও বলেন,  অভিনেতা কমল হাসানের কাজ দেখলে মনে হয়— কী করলাম জীবনে? ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখলে একটা শক্তি পাই। মনে হয় কত কাজ করা বাকি। কত শেখা বাকি, ইন্ডাস্ট্রিকে কত কিছু দেওয়া এখনো বাকি রয়ে গেল।

প্রসেনজিৎ বলেন, গত ১০ বছরে বাংলায় অনেক ভালো সিনেমা তৈরি হয়েছে। আমরা ‘বাহুবলী’ তৈরি করতে পারব না; কিন্তু একটা ‘চোখের বালি’ তৈরি করতে পারি। বাংলায় ভালো নাটক হলে, তা দুই ঘণ্টার মধ্যে হাউসফুল হয়ে যায়। সেটিও তো দর্শকই সম্ভব করেন।

তিনি বলেন, আমি অনেক রাউন্ড টেবিলে বসি, যেখানে সিনেমা নিয়ে আলোচনা হয়। ফলে আমি জানি, সমগ্র সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিই একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস— মূল ধারার সিনেমা আবার ফেরত আসবে।

শিল্পে কিংবা সিনেমায় রাজনীতি বারবার ফিরে এসেছে। —এমন প্রশ্নের উত্তরে বুম্বাদা বলেন, সিনেমা, নাটক, চিত্র— সব ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি— আমার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যখনই দেখা হয়েছে, অভিনয় নিয়েই কথা হয়েছে। সমগ্র ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে ভাবলে, তার উন্নতির জন্য রাজনৈতিক জায়গায় যারা আছেন, তাদের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়। 

এ অভিনেতা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল করা নয়, আমার ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গেলে এদের কাছে গিয়ে বলতে হবে। এটা তো কোনো অপরাধ নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মোহনবাগানকে সমর্থন করতে পারি কিংবা ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করতে পারি; কিন্তু আমার সিনেমা দেখতে তো সবাই আসেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম