Logo
Logo
×
   

বিনোদন

সোহেল রানাকে ৪০ বছর আগের স্মৃতিবিজড়িত ঘড়ি উপহার রুবেলের

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

সোহেল রানাকে ৪০ বছর আগের স্মৃতিবিজড়িত ঘড়ি উপহার রুবেলের

অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা এবং মার্শাল আর্ট হিরো রুবেল।

ঢালিউড সিনেমার প্রযোজক-পরিচালক ও বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা এবং মার্শাল আর্ট হিরো রুবেলের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আবারও নতুনরূপে প্রকাশ পেল তাদের ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে। আজ থেকে ৪০ বছর আগের একটি ঘড়ি স্মৃতিতে অম্লান, যা নতুন করে জেগে উঠল দুই ভাইয়ের হৃদয়ের গভীরে। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা হয়তো এমনই। সময় কিংবা যুক্তি নয়, এখানে নিখাদ আবেগই আসল— ঘটনা একটি ঘড়ি কেন্দ্র করে। 

সেই ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ৪০ বছরের স্মৃতি! বিষয়টি জানালেন সোহেল রানা নিজেই। তারই আপন ছোটভাই রুবেল তাকে একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন। তবে যে কারণে এই ঘড়ি অনন্য হয়ে উঠল, সে ঘটনাই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরলেন 'ওরা ১১ জন' সিনেমার প্রযোজক-মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা।

প্রায় ৪০ বছর আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে গিয়েছিলেন এ অভিনেতা। সঙ্গে ছিলেন ছোটভাই রুবেল ও পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন। চিকিৎসাশেষে চিকিৎসক জানান, অভিনেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এরপর হাসপাতাল থেকে তারা হোটেলে ফেরেন। 

সেদিন বিকালে মার্কেটে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তারা তিনজন। একপর্যায়ে একটি ঘড়ির দোকানে ঢোকেন তারা। কারণ সোহেল রানা ঘড়িপ্রিয় মানুষ, একটি দামি ঘড়ি কেনার জন্যই সেখানে ঢুকেছিলেন।

সোহেল রানা লিখেছেন— ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো (ঘড়ির ব্র্যান্ড) হাতে ছিল, যেটার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো— আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম, সঙ্গে রুবেল ও খোকন। বিরাট শোরুম; সবচেয়ে দামি ঘড়িটা আমার সামনে আনা হলো। দাম শুনে একটু চমকে উঠলাম! ভাবলাম, এত টাকা তো আমার কাছে নেই। কিনে আনলাম বুচারার (ঘড়ির ব্র্যান্ড) ঘড়ি। কিন্তু বারবারই আমার দৃষ্টি পড়ছিল সেই ঘড়িটার দিকে, যেটা টাকার জন্য কিনতে পারিনি।’   

সোহেল রানা আরও লিখেছেন, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম ৪০ বছর আগের কথা। কিন্তু ভোলেনি রুবেল। প্রায় ৪০ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল। বলল— ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে, তার দাম এখনো আমার নাগালের বাইরে; এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা।’ 

তিনি বলেন, কিন্তু তারপরও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলব না। দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে ৪০ বছর পর বড়ভাইয়ের জন্য অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো রুবেল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম