সুস্মিতা থেকে সালমানসহ বলিউড তারকারা বিয়ে করেননি যে কারণে
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১১ পিএম
বিয়ে হয়নি মানেই জীবন অসম্পূর্ণ— এমন ধারণা তারকাদের গল্পের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউডের খ্যাতি, সৌন্দর্য ও সাফল্য— সবই আছে বিনোদন জগতের তারকাদের ঝুলিতে। কিন্তু তারা জীবনকে সাজিয়েছেন নিজের মতো চিরকুমার-কুমারী রূপে। ফলে অসংখ্য প্রস্তাব পেলেও তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। একের পর এক প্রস্তাব— তবু বিয়েতে ‘না’! সংসার পাতার প্রশ্নে তারা বারবার পিছিয়ে গেছেন। কিন্তু কেন?
রুপালি পর্দায় বেশিরভাগ প্রেমের গল্প শেষ হয় বিয়েতে। নায়ক-নায়িকার চার হাত এক হওয়ার পরেই যেন ‘হ্যাপি এন্ডিং’। কিন্তু বাস্তবজীবন তো সিনেমার চিত্রনাট্য মেনে চলে না? প্রায় সব তারকার জীবনেই বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। তবু শেষ পর্যন্ত তারা বেছে নিয়েছেন অন্য পথ। কারও কাছে ক্যারিয়ার, কারও কাছে স্বাধীনতা; আবার কারও কাছে নিজের মতো করে বেঁচে থাকা হয়ে উঠেছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রুপালি পর্দায় প্রেমের গল্পের শেষটা যতই বাঁধা ছকে লেখা থাক না কেন, বাস্তবজীবন তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল, সুস্মিতা সেন, টাবু, আশা পারেখ, দিব্যা দত্ত কিংবা সালমান খান— প্রত্যেকের পথ আলাদা। কেউ বিয়েকে ‘না’ বলেছেন, কেউ সময়কে ‘না’ বলেছেন। আবার কেউ পরিস্থিতিকে 'না' বলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সবাই একটি জায়গায় এক হয়েছেন, একই পথের পথিক— নিজের জীবনের চিত্রনাট্যটা তারা অন্য কারও হাতে তুলে দেননি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী চিরকুমার-কুমারী রূপে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন—
আমিশা প্যাটেল
‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’-এর সাফল্যের পর আমিশা প্যাটেলের নাম রাতারাতি পৌঁছে গিয়েছিল ঘরে ঘরে। পর্দায় প্রেমের দৃশ্যে যতই সাবলীল হোক না কেন, বাস্তবজীবনে বিয়ের সিদ্ধান্তে তিনি বরাবরই নিজের শর্তে চলেছেন। এমন প্রস্তাবও এসেছে, যেখানে বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমিশা প্যাটেলের উত্তর ছিল স্পষ্ট— নিজের পেশা ছেড়ে দিয়ে বিয়ে নয়।
বয়স বাড়লেই যে বিয়ের প্রস্তাব আসা থেমে যায়, আমিশা প্যাটেলের জীবন তার উল্টো উদাহরণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এখনো তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসে। এমনকি তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট পুরুষও তাকে ‘ডেট’-এর প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থাৎ আমিশার ‘না’ বিয়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং ভুল শর্তে, ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ের বিরুদ্ধে।
সুস্মিতা সেন
দুই কন্যাসন্তানের মা। এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। কিন্তু পরিবার গড়তে তার কোনো খামতি ছিল না। দুই কন্যাকে দত্তক নিয়ে নিজের মতো করে সংসার সাজিয়েছেন তিনি। প্রেম এসেছে, সম্পর্ক এসেছে এবং ভেঙেও গেছে। কিন্তু বিয়েকে জীবনের অপরিহার্য শর্ত বলে মেনে নেননি তিনি।
সুস্মিতার জীবনে একাধিক সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কখনো ক্রিকেটার, আবার কখনো ব্যবসায়ী-শিল্পপতি— নানা সময়ে তার নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে। কিন্তু কোনো সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত বিয়ের দিকে গড়ায়নি। তবু অভিনেত্রীকে কখনো নিজের জীবন নিয়ে অনুতপ্ত বলে মনে হয়নি। বরং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বরাবরই স্বচ্ছন্দ তিনি।
অভিনেত্রী টাবু
অভিনেত্রী টাবুর অভিনয় নিয়ে যত কথা হয়েছে, ব্যক্তিজীবন নিয়ে ততটাই রহস্য। টাবু বিয়ে করেননি। সম্পর্কের গুঞ্জন অবশ্য তার পিছু ছাড়েনি। নাগার্জুনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা বহু বছর ধরে আলোচনায়। কিন্তু সেই সম্পর্কও পরিণতি পায়নি। টাবু অবশ্য কখনো নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় বানাতে চাননি।
টাবুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ কিছু মজার ঘটনাও রয়েছে। তার ছবি দেখে ভক্তরা প্রকাশ্যেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। কেউ মজা করে, আবার কেউ বেশ গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে। কিন্তু টাবুর ব্যক্তিজীবনে ‘সিঙ্গেল’ পরিচয়টাই থেকে গেছে। রুপালি পর্দায় শত প্রেমের গল্পের নায়িকা হলেও বাস্তবজীবনে নিজের গল্পটা তিনি নিজের কাছেই রেখেছেন।
আশা পারেখ
ষাট-সত্তরের দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা আশা পারেখ। পর্দায় তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বহু নায়ক। বাস্তবজীবনেও এসেছিল প্রেম। পরিচালক নাসির হুসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। কিন্তু নাসির বিবাহিত হওয়ায় তার সংসার ভাঙার পথে হাঁটেননি আশা পারেখ। প্রেমকে মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু বিয়েকে নয়।
শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, বিয়ের কথাও উঠেছিল আশার জীবনে। এক আমেরিকা নিবাসী ভারতীয় অধ্যাপকের সঙ্গে তার বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কও টেকেনি। পরে বিয়ের সম্পর্ক দেখার চেষ্টা হয়েছিল। তবে কোনোটিই চার হাত এক হওয়ার জায়গায় পৌঁছায়নি। আশার নিজের কথায়, জীবনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই।
অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত
যখন মাত্র ১৯ বছরের তরুণী, তখনই তার বাড়িতে এসেছিল বিয়ের প্রস্তাব। পাত্র আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। পরিবারের চোখে প্রস্তাবটি যথেষ্ট ভালো। কিন্তু দিব্যার চোখে তখন অন্য স্বপ্ন— অভিনয়। এত অল্প বয়সে বিয়ে করে সেই স্বপ্নের উড়ান থামিয়ে দিতে চাননি তিনি।
দিব্যার আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে সেই সময়ের কথা। পরিবারের তরফে বিয়ের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মা-ই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন। মেয়ের অভিনয়ের স্বপ্নকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর সেই সিদ্ধান্তই হয়তো দিব্যার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের জগতেই তৈরি করেন নিজের আলাদা পরিচয়। সালমান খান
বিয়ে ও প্রেমের বিষয়ে সালমান খানকে বাদ দেওয়া ভীষণ কঠিন। তার জীবনে প্রেম এসেছে একাধিক। বিয়ের প্রশ্নও তাই বারবার ফিরে এসেছে। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ভক্তদের কাছ থেকেও এসেছে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব। সালমান অবশ্য হাসি-ঠাট্টায় সেই প্রশ্ন সামলেছেন। বিয়ে? সে উত্তর এখনো যেন তার কাছেই রাখা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এক তরুণী সালমানকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন।
সালমানও নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় উত্তর দেন। জানান, প্রস্তাবটি যদি আরও বছর কুড়ি আগে আসত, তাহলে হয়তো ভাবা যেত! কিন্তু এই মজার ঘটনার আড়ালেও থেকে যায় সেই একই প্রশ্ন— এত বছর পরও কেন বিয়ে করলেন না সালমান খান? উত্তর কারও জানা নেই।
এসব তারকার গল্প এক ছাঁচে ফেলা যায় না। কারও কাছে ক্যারিয়ার পেয়েছে অগ্রাধিকার, কেউ নিজের স্বাধীনতা ছাড়তে চাননি। আবার কেউ এমন সম্পর্কের মধ্যে যেতে চাননি, যেখানে নিজের সিদ্ধান্তের মান থাকবে না। তাই বিয়ে হয়নি মানেই জীবন অসম্পূর্ণ— এমন ধারণা তাদের গল্পের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

-6a93e446d837a.jpg)