রূপ-লাবণ্য আর অভিনয়গুণে অনন্য পপির জীবনে আজ বিশেষ দিন
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
সাদিকা পারভীন পপি। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢালিউড অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপির আজ জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের আজকের এই দিনে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যদিও ব্যক্তিগত কারণে অনেক দিন ধরেই রুপালি পর্দার আড়ালে রয়েছেন অভিনেত্রী। শুধু তাই নয়; গণমাধ্যমের সামনেও তাকে দেখা যায় না। নেই কোনো সিনেমার অনুষ্ঠানেও। পর্দার আড়ালেই স্বামী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে সুখেই সংসার করছেন অভিনেত্রী।
পারিবারিক নানা ঝামেলায় গত কয়েক বছরে বহুবার চর্চা হয়েছে অভিনেত্রীকে নিয়ে। সম্প্রতি তার একটি ‘ভুয়া মন্তব্য’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে তোলপাড় হয়েছিল। যদিও অভিনেত্রী পরে জানিয়ে দেন তিনি সে কথা বলেননি। সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও স্বামী-সন্তান আর সংসার নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন পপি।
একটা সময় দেশের মানুষের চোখে যে কয়েকজন অভিনেত্রীর চেহারা ভেসে উঠত, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পপি। রূপ-লাবণ্য আর অভিনয়গুণ— পপির তুলনা তিনি নিজেই। সেই শক্তিতেই উঠেছিলেন জনপ্রিয়তার আকাশে। একটা সময় মাতিয়েছেন গোটা বাংলাকে। উড়িয়ে দিয়েছিলেন লাখো তরুণের ঘুম।
নবম শ্রেণিতে পড়াকালে ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতা পপির কিছু ছবি নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠান তার মা। আর মায়ের ইচ্ছাতেই শোবিজের পথে হাঁটা শুরু করেন অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। সেই সময়ের কিশোরী পপি সবাইকে টপকে হয়ে যান ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’র চ্যাম্পিয়ন।
বিনোদন জগতে তাকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। এর মধ্যে পপিও সম্পন্ন করেন স্কুলজীবন। মায়ের সঙ্গে চলে আসেন ঢাকায়, ভর্তি হন লালমাটিয়া মহিলা কলেজে। আর মায়ের সহযোগিতায় খুঁজছিলেন সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। একদা পরিচয় ঘটে নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে। তার হাত ধরেই শুরু হয় পপির সিনেজীবন।
প্রথমবার অভিনয় করেন ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমায়। সেই সিনেমায় নায়ক ছিলেন শাকিল খান। যদিও পপির প্রথম সিনেমা ছিল ‘কুলি’। ফটোসুন্দরী হওয়া এবং সোহানুর রহমান সোহানের সিনেমায় যুক্ত হওয়ার সুবাদে একই সময়ে আরও বেশ কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব আসে পপির কাছে।
ফলে অভিষেক বছর ১৯৯৭ সালে পপির চারটি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে ‘কুলি’ দিয়ে তার প্রেক্ষাগৃহে অভিষেক হয়। মনতাজুর রহমান আকবরের সেই সিনেমায় তার সঙ্গে কাজ করেন ওমর সানী। সিনেমাটি সুপারহিট হয়। পপিকে আর পেছন ফিরেও তাকাতে হয়নি। রাতারাতি পপি হয়ে ওঠেন স্টার। দর্শকদের মধ্যে তাকে ঘিরে তৈরি হয় প্রবল আকর্ষণ, নির্মাতারাও তাকে ভাবতে থাকেন নতুন সম্ভাবনার আলো।
প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে জুটি হয়ে একের পর এক সিনেমা করতে থাকেন পপি। একের পর এক সাফল্য ধরা দেয় পপির হাতে। ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘ক্ষ্যাপা বাসু’ সিনেমাগুলো পপিকে নিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। শাবনূর-মৌসুমীর পাশাপাশি পপি হয়ে ওঠেন ঢালিউডের তুরুপের তাস।
পপি সেই সময়ে দর্শকদের আলাদা নজর কেড়েছিলেন। নায়ক রুবেলের সঙ্গে তার জুটিবদ্ধ সিনেমাগুলোও তুলেছিল আলোড়ন। এ জুটি একসঙ্গে প্রায় ২২টি সিনেমা করেছিলেন। অধিকাংশই সফল হয়েছিল।
ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময়েই তিনি করেছেন কালাম কায়সারের ‘কারাগার’। এতে টোকাই চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর বছর তিনেক পর বাদল খন্দকারের ‘বিদ্রোহী পদ্মা’য় অভিনয় করেও প্রশংসিত হন তিনি। ২০০৬ সালে পর্দায় আসেন সামিয়া জামানের ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’ সিনেমাতেও।
এসব সিনেমা তার অভিনয়গুণকে নতুনভাবে প্রমাণ করে। ২০০৮ সালে নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ দিয়ে আবার বাজিমাৎ করেন পপি। জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। পরের বছর অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’ও তাকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার।
ছকে বাধা পড়েননি পপি। নির্মাতারা যে গল্প ও চরিত্রে তাকে রূপ দিতে চেয়েছেন, তিনি ঠিক তাই করেছেন। মুগ্ধও হয়েছেন সবাইকে। ঠিক এ জায়গা থেকেই বেজে ওঠে আক্ষেপের সুর।
কেননা সেই পপিই কিনা অনেক বছর ধরে সিনেমা থেকে দূরে চলে গেলেন। যেন হারিয়ে গেলেন কালের স্রোতে। অথচ সিনেমার এই নয়া হাওয়ার দিনে, ওটিটির যুগে তিনিও হতে পারতেন সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের বিস্ময় ও মুগ্ধতার উদাহরণ।

