গাজায় গণহত্যা নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাতাদের পাশে দাঁড়ালেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজায় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘নাজা’-র নির্মাতাদের সমর্থনে একটি পিটিশনে সই করেছেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানা গেছে।
এই নির্মাতাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজের মতো প্রখ্যাত পরিচালকেরাও রয়েছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘শিল্প ও সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজে আয়না ধরা।’
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে এই তথ্যচিত্রটি স্পেশাল জুরি প্রাইজ জেতার পর থেকেই এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম এবং রাচেল জোর নানা সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েন। তাদের প্রতি সমর্থন হিসেবেই মূলত চলচ্চিত্র নির্মাতারা একজোট হয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর নিজ দেশের নির্মাতাদের এই কাজকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
তবে ইসরাইলি আইন অনুযায়ী সংস্কৃতিমন্ত্রীর একার পক্ষে কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা নেই; এর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তথ্যচিত্রে কী তুলে ধরা হয়েছে?
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এবং ‘জেডব্লিউ ফিল্মস’-এর যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি তৈরি হয়েছে ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। গাজায় নজরদারি, টার্গেট নির্বাচন এবং হামলার প্রক্রিয়া এতে তুলে ধরা হয়েছে।
হিব্রু ভাষায় ‘নাজা’ বলতে কোনো হামলায় সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা ‘কোলাটারাল ড্যামেজ’-কে বোঝানো হয়। তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টার্গেট ঠিক করা এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো গুরুতর বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
তথ্যচিত্রটির নির্মাতাদের মতে, এটি কোনো একক সেনার ভুল নয়, বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ফল।
এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী তথ্যচিত্রে তুলে ধরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বেনামি উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং সামরিক নিয়ম মেনে মানুষই এসব হামলার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে এই দুই নির্মাতা ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ তৈরি করেছিলেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

