পাকিস্তানি নাটক ‘দার-ই-নিজাত’ কেন এত আলোচনায়?
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’ নাটকের ১৩তম পর্বে এমনই এক সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের সামনে এসেছে, যেখানে প্রেম শুধু কাছে পাওয়ার গল্প নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে ছেড়ে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও, যা ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে সাড়া ফেলে দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ত্যাগ আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে যখন একজন মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যায় ভালোবাসাকেই ‘অজ্ঞতার সময়’ বলে পেছনে ফেলে যান, ঠিক তখনই সেই গল্পে প্রশ্ন ওঠে অনেক কিছু নিয়েই।
‘দার-ই-নিজাত’ নাটকে জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা নামির খান। অন্যদিকে জারিয়াবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দুরেফিশান সেলিম। এআইওয়াইয়ের জনপ্রিয় নাটকটির ১৩তম পর্ব সম্প্রচার হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জামিল ও জারিয়াবের সম্পর্কের পরিণতি।
তবে কেবল প্রেম ভেঙে যাওয়ার ঘটনাই নয়, ধর্ম, বিয়ে ও নারী-পুরুষের জন্য ভিন্ন মানদণ্ড এবং সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ববোধ— সবকিছু মিলিয়েই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নাটকটি।
গল্পে দেখা গেছে, বহু বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জামিল ও জারিয়াবের সম্পর্ক একসময় আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমনকি শৈশবের প্রেমিকা জারিয়াবের সঙ্গে কিছু দিন একসঙ্গে থাকার পরও হঠাৎ তাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জামিল।
গল্পের মোড় ঘুরে যায়, জামিলের ধর্মীয় জীবনে নতুনভাবে ফিরে আসার পর তিনি একটি মাদ্রাসার অচেনা নারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের আগে কিংবা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোনো পর্যায়েই জারিয়াবকে কিছু বলেননি।
এ সিদ্ধান্তের পর উত্তর খুঁজতে জামিলের বাড়িতে হাজির হন জারিয়াব। সেখানেই দুজনের কথোপকথন সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে। আবেগপ্রবণ জারিয়াবের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে জামিল বলেন, তার সঙ্গে কাটানো সময় ছিল তার ‘অজ্ঞতার যুগ’।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে যে সময় কাটিয়েছি, সেটা ছিল আমার অজ্ঞতার সময়। আমি সেসব পেছনে ফেলে এসেছি। সামনে এগিয়ে যেতে আমার এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন ছিল, যে আমার ধর্মীয় জীবনে আমাকে সহযোগিতা করবে। এমন একজন, যে ধার্মিক, পবিত্র ও নিষ্পাপ।’ জামিল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আল্লাহ আমার তওবা কবুল করেছেন এবং তার ফল হিসেবেই তাকে আমার জীবনে দিয়েছেন।’
মিলের এমন অবস্থানের পর জারিয়াবকে নিজের মতো কাউকে বিয়ে করার পরামর্শও দেন জামিল। কিন্তু জারিয়াবের প্রশ্ন থেকেই যায়— তাহলে কি শুধু একজন পুরুষেরই তওবা করার অধিকার আছে?

