কেন কাজে গিয়ে তিন ঘণ্টা কেঁদেছিলেন পরিণীতি?
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাতৃত্বের পর জীবনের অনেক কিছুই বদলে যায়। কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু করে অনুভূতি ও দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুতেই আসে পরিবর্তন। বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার অভিজ্ঞতাও ছিল তেমনই। সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ছেলেকে চোখের আড়াল করতে চাইতেন না তিনি। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে একদিন সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাইরে যেতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা এখনো ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিণীতি জানান, ছেলেকে রেখে প্রথমবার মুম্বাই যাওয়ার সময় বিমানে টানা তিন ঘণ্টা কেঁদেছিলেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সেই যাত্রার বিস্তারিত তার আর মনে নেই। বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছেছেন, কীভাবে বিমানে উঠেছেন কিংবা মুম্বাইয়ে কীভাবে পৌঁছেছেন—এসব কিছুই মনে করতে পারেন না। শুধু মনে আছে, পুরো তিন ঘণ্টা তিনি কেঁদেছিলেন।
সন্তানকে রেখে কাজে বের হওয়ার সময় মায়েদের মধ্যে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, পরিণীতির ক্ষেত্রেও তা ছিল। তবে তার মতে, নিজের অনুভূতি কেবল সাধারণ ‘মম গিল্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তখন তার মনে হয়েছিল, হয়ত আর কখনো কাজ করতে পারবেন না।
তবে ছেলেকে নিয়ে বাস্তবে কোনো উদ্বেগের কারণ ছিল না। সন্তান পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেই নিরাপদে বাড়িতে ছিল এবং তার অনুপস্থিতির কারণে শিশুটির কোনো সমস্যাও হয়নি। বরং পরিবারের সদস্যরা তাকে আরও কিছুদিন বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন।
তারপরও নিজের ভেতরের অপরাধবোধ কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না পরিণীতির জন্য। তার মতে, মায়েদের এই অপরাধবোধ অত্যন্ত তীব্র হতে পারে।
এই অনুভূতির পেছনে মায়ের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির পাশাপাশি সামাজিক ধারণারও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন পরিণীতি। তার মতে, সন্তানকে ঘিরে মায়েদের ওপর সমাজের তৈরি করে দেওয়া প্রত্যাশাগুলোও অনেক সময় অপরাধবোধ বাড়িয়ে দেয়।
কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অনেক নারীই তাকে সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলেও জানান অভিনেত্রী। তারা সরাসরি জানতে চান, ‘আপনার বাচ্চা কোথায়?’ পরিণীতি তখন জানান, সন্তান বাড়িতেই আছে।
অভিনেত্রীর মতে, একজন মা সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনও চালিয়ে যেতে পারেন—এই বিষয়টি সমাজের আরও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।

