সালমান খানের সঙ্গে সুসম্পর্ক, ঝুঁকিতে টাইগার শ্রফের জীবন
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ছবি: এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ঠিক ছয় দিন পর মুম্বাইয়ের জুহুতে অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটল। দুটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল। দুটি ক্ষেত্রেই বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই হামলায় টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে একটি ভয়েস রেকর্ডিং ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আমাদের তোয়াক্কা না করে কাজ করবে অথবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের হত্যা করা হবে। এটি প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা।’ ওই অডিওতে এই হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে হারমান সান্ধু নামের এক সহযোগীর নামও উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হারমান সান্ধু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। একইভাবে ২০২৪ সালে বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা শুভম লোনকারও মার্কিন মুলুকেই রয়েছেন।
বাবা সিদ্দিকী হত্যা ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ছায়া
বিভিন্ন তারকার সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য পরিচিত ৬৬ বছর বয়সি বাবা সিদ্দিকী ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর রাতে বান্দ্রা (পূর্ব) এলাকায় তার ছেলে জিসান সিদ্দিকীর অফিসের বাইরে তিন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। দুর্গাপূজা ও দশেরা উৎসবের কারণে সে সময় মুম্বাই পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী শুভম লোনকার পরিচয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়। সেখানে সালমান খানের সঙ্গে সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠতা এবং অভিনেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত অনুজ থাপানের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টিকে এই হত্যার কারণ হিসেবে দেখানো হয়। পোস্টে লেখা হয়েছিল, ‘যিনিই সালমান খানকে সাহায্য করবেন... নিজেদের হিসাব মিলিয়ে রাখুন।’ এছাড়া সালমান খানের সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, বাবা সিদ্দিকীকে যারা হত্যা করেছিল, তারা তার বাড়ি ও কার্যালয় দুই মাস ধরে রকিংস বা নজরদারি করেছিল। ঘটনাস্থলেই গুরমাইল সিংহ ও ধর্মরাজ কাশ্যপ নামের দুজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে মূল শুটার শিবকুমার গৌতমকে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ থেকে নেপাল পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি পিস্তল সরবরাহ করেছিলেন নিতিন সাপ্রে।
গ্রেফতারের পর গৌতম জানান, লরেন্সের ছোট ভাই আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়া অনমল বিষ্ণোই এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ আদালত এই ঘটনায় অভিযুক্ত ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনমল বিষ্ণোইকে বিতাড়িত করার পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন।
সালমান খান ও তার সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তু করার দীর্ঘ ইতিহাস
কালো হরিণ শিকারের একটি মামলার সঙ্গে সালমানের কথিত সম্পৃক্ততা এবং প্রাণীপ্রেমের প্রতি বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলে গত কয়েক বছর ধরে সালমান খান ও তার ঘনিষ্ঠজনদের টার্গেট করে আসছে এই গ্যাংটি।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল বান্দ্রায় সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে মোটরসাইকেলে চড়ে এসে গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতকারী। পরে গুজরাট থেকে ভিকি গুপ্ত ও সাগর পাল নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অনুজ থাপান গত ১ মে পুলিশ লকআপে আত্মহত্যা করেন। ওই সময় অনমল বিষ্ণোই এই হামলার দায় স্বীকার করে একে একটি ‘ট্রেলার’ এবং ‘প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। রোববারের অডিও ক্লিপটিতেও অনিল পণ্ডিত একই ভাষার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
চার্জশিটে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান খান বলেছিলেন, তার বিশ্বাস, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা যখন ঘুমাচ্ছিলেন’, তখনই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ছাড়াও তিনি ২০২২ সালে একটি হুমকি চিঠি, ২০২৩ সালের মার্চে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পানভেলের খামারবাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে নবি মুম্বাই পুলিশ খামারবাড়ি ও তাঁর কর্মক্ষেত্র রেকি করার অভিযোগে গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে।
কানাডার সারিতে কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত তিনবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নেটফ্লিক্স শোয়ে সালমান খানকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির জুহুর বাড়িতেও গুলি চালানো হয়। সেই হামলার দায়ও শুভম লোনকারের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বীকার করা হয় এবং রোববারের অডিওতে উল্লেখিত সেই হারমান সান্ধুর নামই সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ছাড়া নিহত বাবা সিদ্দিকীর ছেলে জিসান সিদ্দিকীও বারবার মৃত্যুর হুমকি পেয়ে আসছেন।
একই কারণ দেখিয়ে পাঞ্জাবি গায়ক এপি ঢিল্লো ও গুরু রানধাওয়াকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


