টাইগার নয় টার্গেট ছিলেন সালমান খান, জানা গেল শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলের কারণ
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
টাইগার শ্রফ ও সালমান খান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউডে গ্যাংস্টারদের আতঙ্ক যেন থামছেই না! সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। কিন্তু তার কড়া নিরাপত্তা দেখে গ্যাংটির শুটাররা পরিকল্পনা বদল করে টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত তিন শুটার প্রথমে মুম্বাইয়ে এসে সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের আশেপাশের এলাকা ঘুরে নজরদারি করেন। কিন্তু সেখানে সবসময় পুলিশের ভারী পাহারা এবং সালমানের কড়া ‘ওয়াই-প্লাস’ নিরাপত্তা দেখে তারা সেই পরিকল্পনা বাতিল করে।
সালমানের বাসভবনের বাইরে চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশি পাহারার পাশাপাশি তার যাতায়াতের স্থানগুলোও আগে থেকেই স্থানীয় পুলিশ দিয়ে স্যানিটাইজ বা নিরাপদ করা হয়।
সালমানের নাগাল না পেয়ে শুটারদের নজর পড়ে টাইগার শ্রফের ওপর। ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন ফ্যান পেজ ঘেঁটে তারা জানতে পারেন যে, টাইগার প্রতি রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠে যান এবং তার নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। সাধারণ মানুষের ভিড়ে কম নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করার কারণে শুটাররা ভেবেছিল টাইগারকে নিশানা করা সহজ হবে।
এই ঘটনার পরপরই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নামের দুই ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্ট দিয়ে এই হামলার দায় স্বীকার করে। টাইগার শ্রফকে হুমকি দিয়ে পোস্টে লেখা হয়, ‘আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে ঘটা ঘটনার দায় আমরা নিচ্ছি। আমরা তাকে আগে ফোন করে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সে বোঝেনি; তাই আজ তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হলো।’
পাশাপাশি পুরো হিন্দি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে কেউ আমাদের কথা না শুনলে বা সালমানের সঙ্গে কাজ করলে, তাদের অবস্থাও এমনই হবে। অপেক্ষা করুন ও দেখুন।’
পুলিশ ও বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজস্থানের কোটা পুলিশ তিন শুটারকে (দুজন হরিয়ানা ও একজন বিহারের বাসিন্দা) গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ছাড়া, টাইগারের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে হরিয়ানার সোনপত জেলা থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাধা ও ববিতা নামের দুই নারী গ্যাংয়ের কুরিয়ার হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা ট্রেনযোগে হরিয়ানা থেকে অস্ত্রগুলো মুম্বাইয়ে এনে গ্যাংয়ের এক হ্যান্ডলারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে ফেরার পথে ট্রেনেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তাদের জেরা করে কুনাল ও সুমিত নামের দুই ব্যক্তির নাম বেরিয়ে আসে, যাদের পরবর্তীতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে পুলিশ এই পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক এবং গ্যাংয়ের বাকি যোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

