Logo
Logo
×

Advertisement

ইউরোপ

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

গ্রিসের অ্যাথেন্স শহরে হেঁটে যাচ্ছেন এক পথচারী। ছবি: আল জাজিরা

Advertisement

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক কম্পিউটারের সামনে বসে সম্পত্তির চুক্তিপত্রগুলো দেখছিলেন ৬৯ বছর বয়সি স্থপতি তোনিয়া কাতেরিনি। তার দাবি, এসব চুক্তির মধ্য দিয়েই বদলে যাচ্ছে তার দীর্ঘ দিনের পরিচিত পাড়া।

এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকা দীর্ঘ দিন ধরে বামপন্থি রাজনীতির জন্য পরিচিত। কিন্তু এখন সেখানে একের পর এক ফ্ল্যাট কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত কয়েক মাস ধরে কাতেরিনি ও তার কয়েকজন প্রতিবেশী সরকারি নথি ঘেঁটে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার তথ্য সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করেছেন। সেখানে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তি লাল বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিজের সড়ক থেকে মানচিত্রটি বড় পরিসরে দেখালেন কাতেরিনি। পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য লাল বিন্দু।

তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে যে ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন, সেটির বারান্দার দরজা খোলা ছিল। নিচের ক্যাফেগুলো থেকে ভেসে আসছিল মানুষের কথাবার্তা ও কোলাহল। ঘরের ভেতরে গাছপালার পাশে স্তূপ করে রাখা স্থাপত্যবিষয়ক নকশা।

কাতেরিনি ও তার সহযোগীদের দাবি, এসব স্বল্পমেয়াদি ভাড়াবাড়িতে বিনিয়োগ করা অর্থের বড় অংশই ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এলাকায় নতুন করে চালু হওয়া কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়াবাড়ির অর্ধেকেরও বেশি ইসরাইলিদের মালিকানাধীন।

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যেখানে বারান্দায় বারান্দায় পতাকা ঝুলছে, দেয়ালে দেয়ালে লেখা প্রতিবাদী স্লোগান, সেখানে ইসরাইলি বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এখন প্রতিদিন সকালে পর্যটকদের টেনে আনা স্যুটকেসের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তার ভাষ্য, ওই সড়কে ইসরাইলি বিনিয়োগকারীরা দুটি ভবন কিনেছেন। তার ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটটিও একটি কোম্পানির মালিকানাধীন।

কাতেরিনি বলেন, ‘নিচতলায় যারা আছেন, তারা ভালো মানুষ। তবে কোম্পানিটি ইসরাইলি।’

কয়েকটি সড়ক দূরে একটি আবাসিক ভবনের দেয়ালজুড়ে কালো রঙের দাগ। সেখানে লেখা, ‘এয়ারবিএনবি আমাদের গৃহহীন করছে।’ আরেকটি স্লোগানে লেখা, ‘জায়নবাদীরা স্বাগত নয়।’

এ ধরনের ভবন সহজেই চেনা যায়। সাধারণ আবাসিক ভবনের মতো দরজার ঘণ্টায় বাসিন্দাদের নামের বদলে থাকে শুধু নম্বর। দরজার পাশে থাকা একটি বিশেষ কিপ্যাডের মাধ্যমে এয়ারবিএনবির অতিথিরা চাবি সংগ্রহ করেন।

এলাকার বিভিন্ন ভবনের প্রবেশপথ ও কিপ্যাডে লাল রং ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

তাদের অভিযোগ, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা এলাকাটিতে আগ্রাসীভাবে অভিজাতকরণ ঘটাচ্ছে। এতে বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, উচ্ছেদ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার নিজস্ব পরিচয়।


গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে অনাবাসী বিদেশিদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। পরবর্তী বছর অবশ্য বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমে।

এথেন্সে কোন দেশের নাগরিকরা কত সম্পত্তি কিনছেন, সে বিষয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে গ্রিক সাপ্তাহিক পত্রিকা তো ভিমার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক রিম্যাক্স হেলাসের বার্ষিক জরিপে রাজধানীসংলগ্ন আতিকা অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরাইলিরা শীর্ষে রয়েছেন। তাদের পরেই রয়েছেন তুরস্ক ও লেবাননের ক্রেতারা।

এক্সারখিয়ার রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৭৩ সালে কাছের এথেন্স পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। পরের বছর ওই সরকারের পতন ঘটে।

২০০৮ সালে এক্সারখিয়ায় পুলিশের গুলিতে ১৫ বছর বয়সি গ্রিক শিক্ষার্থী আলেক্সান্দ্রোস গ্রিগোরোপোলোস নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কাতেরিনির ভাষায়, ঘটনাটি ছিল ‘শুকনো জমিতে আগুন লাগার’ মতো।

গ্রিসের ঋণসংকট গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথের সেই ক্ষোভ বামপন্থি দল সিরিজাকে ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করে দেয়।

‘রাতারাতি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ’

এক্সারখিয়ায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন ৪৬ বছর বয়সি স্কুলশিক্ষক ক্রিসুল্লা পাপাগেওরগিউ। এলাকার রাস্তাঘাটে পরিচিত মুখ তিনি। তার স্মৃতিতে এক্সারখিয়া ছিল ‘পারস্পরিক সংহতির একটি পাড়া’।

তার ভাষ্য, পরিবর্তন প্রথমে ধীরগতিতে এলেও পরে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। শুরুতে বাড়ির মালিকরা নিজেদের অতিরিক্ত একটি কক্ষ ভাড়া দিতেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনতে শুরু করে।

পাপাগেওরগিউ বলেন, ‘রাতারাতি ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদ হয়েছে, খালি হয়ে গেছে একের পর এক আবাসিক ভবন।’

এক সময় যেসব সড়ক ছিল শান্ত, সেখানে নতুন নতুন বার খোলা হয়েছে। ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে টেবিল-চেয়ার। বেড়েছে বাড়িভাড়া। প্রথমেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। তাদের অনেকেই ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নিচতলায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে ও মুদির দোকান।

বছরের পর বছর এক্সারখিয়ার বাসিন্দারা দখল করা বিভিন্ন ভবনে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর দাবি, মূল্যবান জমিতে অবস্থিত এসব ভবনই ছিল পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম লক্ষ্য। পরে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘এক সময় অর্ধেক ভবনই ছিল দখল করা আশ্রয়কেন্দ্র। এখন মাত্র একটি রয়েছে।’

সেই শেষ আশ্রয়কেন্দ্রটির গায়ে আঁকা চাদর টাঙানো রয়েছে। তাতে ভেতরে থাকা পরিবারগুলোর প্রতি সংহতির বার্তা লেখা। প্রতিবেশীরা মিলে সেখানকার শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করেন।

২০২২ সাল থেকে এক্সারখিয়া চত্বর—যা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিক্ষোভ-প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল—নতুন মেট্রো স্টেশন নির্মাণের জন্য ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। অনেক বাসিন্দাই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন। পাপাগেওরগিউ বলেন, এখন দাঙ্গা পুলিশও প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

তার ধারণা, এর পেছনে উদ্দেশ্য হলো এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকাকে ‘পুরোপুরি পর্যটননির্ভর’ করে তোলা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পত্তি কিনতে আসা ক্রেতারা ‘প্রায় সবাই ইসরাইলি’ বলে দাবি করেন তিনি।

চত্বরের কাছেই ঝুলছে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা। পর্যটকদের কেউ কেউ পতাকার সাদা অংশে ফিলিস্তিনবিরোধী বার্তা লিখে দেন। পরে আন্দোলনকারীরা রং করে সেগুলো মুছে ফেলেন।

কাতেরিনির মতে, ইসরাইলের তুলনায় গ্রিসকে নিজেদের অর্থ রাখার নিরাপদ জায়গা হিসেবে দেখছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এথেন্সে ‘সরকারও ইসরাইলের প্রতি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ’। গত আগস্টে গ্রিস ইসরাইলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি করে।


বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘দারুণ সুযোগ’ এক্সারখিয়া

এথেন্স-আতিকা রিয়েল এস্টেট এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একটি শাখার প্রধান ভ্যাগেলিস লাজারিদিসের মতে, এক্সারখিয়ায় বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে বাস্তব অর্থনৈতিক কারণ।

তিনি বলেন, এলাকাটি এক সময় অবহেলিত ছিল। সে কারণে এটি বিনিয়োগের জন্য ‘দারুণ সুযোগ’ তৈরি করেছে।

এথেন্সের কেন্দ্রের কাছে হওয়ায় এবং মেট্রো স্টেশন ও বিদেশি শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছাকাছি থাকায় এলাকাটির অবস্থান বেশ সুবিধাজনক। অন্যদিকে, অ্যাক্রোপোলিসের নিচে অবস্থিত প্লাকার মতো এখানে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে তেমন বিধিনিষেধ নেই।

লাজারিদিস বলেন, একবার কয়েকজন ক্রেতা কোনো এলাকায় বিনিয়োগ শুরু করলে অন্যরাও তাদের অনুসরণ করেন।

ইসরাইলিদের কাছে গ্রিসের আকর্ষণ কমাতে উদ্যোগ

আবাসনবাজারের উত্তাপ কমাতে এখন উদ্যোগ নিয়েছে গ্রিস সরকার।

প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর কর আগামী বছরের জুলাই থেকে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, ‘গ্রিসে উৎসবের দিন শেষ।’ পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কিনে আকর্ষণীয় মুনাফা পাওয়ার আশায় ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছে গ্রিস জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নতুন কর কার্যকর হলে দেশটিতে বিনিয়োগে আকর্ষণ হারাবে তারা।

লাজারিদিস বলেন, রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তার ধারণা, এটি কার্যকর না-ও হতে পারে কিংবা বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইন.জিআর জানিয়েছে, নতুন কর কার্যকরের নির্ধারিত সময়সীমার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কিছু ক্রেতা দ্রুত সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন এজেন্টরা।


‘এখন এয়ারবিএনবি অনেক কম’

তবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সবাই মনে করেন না যে, বিদেশি বিনিয়োগের এই ঢেউ থামানো অসম্ভব।

ইউক্রেনের বাসিন্দা ইরিনা রন্দিয়াক এক্সারখিয়ার কাছে নিজের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য, প্রায় এক দশক আগে ইসরাইলি ক্রেতারা আসতে শুরু করেন। তার বিদেশি গ্রাহকদের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিলেন ইসরাইলি। তাদের অনেকেই পুরো অফিস ভবন কিনে হোটেলে রূপান্তর করতেন।

রন্দিয়াকের হিসাবে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার মোট সম্পত্তি বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতারা যুক্ত ছিলেন। কিন্তু চলতি বছর সেই হার কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।

এর পেছনে তিনি গ্রিস সরকারের তরুণদের জন্য চালু করা ‘স্পিতি মু’ বা ‘আমার বাড়ি’ নামের আবাসন ঋণ কর্মসূচিকে কৃতিত্ব দেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ গ্রিক নাগরিকরা সরকারি সহায়তায় বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

নতুন কিছু বিধিনিষেধও পরিস্থিতি বদলাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন রন্দিয়াক।

গ্রিক সাপ্তাহিক পত্রিকা তো ভিমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সারখিয়াসহ এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিসের ‘গোল্ডেন ভিসা’ আবাসন কর্মসূচির আওতায় কেনা সম্পত্তি এখন থেকে শুধু দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দেওয়া যাবে। তবে খালি অফিস ভবনকে আবাসিক ফ্ল্যাটে রূপান্তর করলে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগের তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল পথেও এই কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যায়।

রন্দিয়াক বলেন, ‘গ্রিসে বসবাস করেও মানুষ কেন্দ্রীয় এলাকায় থাকার মতো বাড়ি খুঁজে পেত না। সবকিছুই এয়ারবিএনবি হয়ে গিয়েছিল। এখন এ ধরনের ভাড়াবাড়ি অনেক কম।’

তার মতে, পরিস্থিতি ‘কিছুটা ভালো’ হয়েছে। তবে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

তিনি জানান, এমনকি দক্ষিণের উপশহরগুলোতেও প্রতি বর্গমিটারে বাড়িভাড়া ১০ থেকে ১৫ ইউরো। করের বোঝার কারণে অনেক বাড়ির মালিক সম্পত্তি ভাড়া দেওয়াকে লাভজনক মনে করছেন না। ফলে অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো আশাবাদী হতে পারছেন না।

তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীরা এখনো নানা উপায়ে বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। তা ছাড়া এত দিনে এলাকার অনেক ভবনই স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে পরিণত হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা অতীতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

এক্সারখিয়ায় ফিরে পাপাগেওরগিউ নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন।

তার বাড়িওয়ালার পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। বাড়িওয়ালা ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর ভাষায়, এটি একধরনের ‘প্রতিরোধ’।

রসিকতা করে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালার হিসাবরক্ষক তাকে জানিয়েছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে তিনি যেন পুরো আবাসনবাজারটাই নষ্ট করে দিচ্ছেন। সূত্র: আল জাজিরা

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল  ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর

গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর

আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু

আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের নতুন খেলা

ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের নতুন খেলা

পশ্চিম তীরে মার্কিন সাংবাদিককে পেটাল বসতি স্থাপনকারীরা, ক্ষুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র

পশ্চিম তীরে মার্কিন সাংবাদিককে পেটাল বসতি স্থাপনকারীরা, ক্ষুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল

পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলায় গুরুতর আহত মার্কিন সাংবাদিক

পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলায় গুরুতর আহত মার্কিন সাংবাদিক

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন ম্যাক্রোঁ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন ম্যাক্রোঁ

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

আল জাজিরার বিশ্লেষণ ফ্রান্সে স্কুলের আন্দোলন কীভাবে রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হলো?

ফ্রান্সে স্কুলের আন্দোলন কীভাবে রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হলো?

গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর

গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল  ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম