Logo
Logo
×

Advertisement

পরবাস

নয়াদিল্লিতে দূতাবাসে ভোগান্তি, পর্তুগিজ প্রতিমন্ত্রীর সমাধানের আশ্বাস

Advertisement

Icon

নাঈম হাসান, লিসবন, পর্তুগাল থেকে

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০২:৩৮ পিএম

নয়াদিল্লিতে দূতাবাসে ভোগান্তি, পর্তুগিজ প্রতিমন্ত্রীর সমাধানের আশ্বাস

Advertisement

ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পর্তুগিজ দূতাবাসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। পর্তুগিজ দূতাবাসে কর্মরত স্থানীয় ভারতীয় কনস্যুলারদের বাংলাদেশি সেবাগ্রাহীদের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগসহ দিল্লির দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি সত্যায়িত করতে ও ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তীব্র হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পর্তুগালে বিভিন্ন ভিসার জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশিদের। 

বাংলাদেশে পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস না থাকার কারণে কনস্যুলারের বিভিন্ন সেবা পেতে ও ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশিদের দিল্লী যাতায়াত করতে হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালের পারিবারিক ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের সত্যায়ন করতে গিয়ে তারা বেশ হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেখানে। 

দিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাসে হয়রানির অভিযোগ বেশ পুরনো। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও কোনো উপর্যুপরি সমাধান দৃশ্যমান না হওয়ায় পর্তুগালে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বাংলাদেশি শাহ আলম কাজল রাজনৈতিকভাব বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেন। শাহ আলম কাজল পোর্তো শহর থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন স্যোসালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। পর্তুগালের বর্তমান সরকারের  পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, এমপি পোর্তো শহরে শাহ আলম কাজলের রাজনৈতিক সহকর্মী। 

শাহ আলম কাজল বাংলাদেশিদের সমস্যাগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোসে লুইস কার্নেইরো কে তাদের দলীয় বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে অবগত করেন। সঙ্গে মন্ত্রীর ই-মেইলে সমস্যাগুলোর তালিকা লিখে পাঠান। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী ফিরতি ইমেইলের জবাবে শাহ আলম কাজলের উল্লেখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস প্রদানের পাশাপাশি তার পাঠানো বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে তিনি ভাবছেন বলে জানান এবং আগামী সেপ্টেম্বরে পোর্তো শহরে বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে একটি ডিনারে মিলিত হওয়ার সম্মতি প্রদান করেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে সেই ডিনার। সেখানে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার ইঙ্গিত রয়েছে। 

বাংলাদেশে পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের দাবির পাশাপাশি শাহ আলম কাজলের প্রস্তাবনার মধ্যে ছিলো, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও পর্তুগালে বিভিন্ন ভিসার জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশিদের সুবিধার জন্য দিল্লী কনস্যুলার থেকে মাসে অন্তত একবার করে ঢাকায় কনস্যুলার সেবা প্রদান। যাতে করে ভিসা সংক্রান্তে বিষয়গুলো আবেদনকারীদের আর দিল্লী না যেতে হয়। 

অন্য আরেকটি প্রস্তাব ছিলো, পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালের পারিবারিক ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের সত্যায়ন করতে দিল্লী যেতে হয়। সেটির বদলে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন নিয়ে সরাসরি পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে সত্যায়ন প্রদান করা। এতে করে প্রবাসীদের দিল্লী যাওয়ার ভোগান্তি পোহাতে হবে না। 

নয়াদিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাসে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করে বৈষ্যমের শিকার হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি জানান, ২০১৮ সালের দিকে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদনের পর দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এর আগে ভিসার সাক্ষাৎকার দিতে গেলে পর্তুগিজ দূতাবাসে কর্মরত ভারতীয় এক কনস্যুলার অফিসারের আচরণ নিয়ে সেই শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করেন।

ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার শক্ত কোনো কারণ বের করতে না পেরে এক পর্যায়ে ই-মেইলে তিনি ভারতের পর্তুগিজ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বরাবর সবকিছুর বর্ণনা দিয়ে লিখেন। দিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাস বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব সহকারে নেন, এবং পরবর্তীতে সেই ছাত্রকে ভিসা প্রদানের পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। 

এর আগে গেল জানুয়ারিতে বাংলাদেশে পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি ও কনস্যুলারে নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগুস্তো সান্তোস সিলভার সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো। পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল মন্ত্রীর কাছে দাবিগুলো তুলে ধরেন। পরে মন্ত্রী সমস্যাগুলোর সমাধানের পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন সেসময়। তিনি জানান দূতাবাস, কনস্যুলারের বিষয়গুলো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেখেন। 

সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগুস্তো সান্তোস সিলভা জানান, বর্তমানে ৭৮ দেশে পর্তুগিজ কনস্যুলার সেবা চালু রয়েছে। বাংলাদেশিরা যে ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি। দূতাবাস নিয়ে আপনার দাবি আমি সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা করবো। 

পর্তুগালে অনেক বাংলাদেশই নয়াদিল্লীয় পর্তুগিজ দূতাবাসের সেবায় সন্তুষ্ট নয়। তাই বাংলাদেশে পর্তুগিজ দূতাবাস খোলার দাবির পাশাপাশি তারা এসব হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায়।

Advertisement

আশ্বাস

Advertisement

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

সৌদি আরবে ঘুমের মধ্যে প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবে ঘুমের মধ্যে প্রবাসীর মৃত্যু

জামায়াতের ৩৪ এমপির মালয়েশিয়া মিশন ‘শিক্ষামূলক সফরে’ সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বৈঠক

‘শিক্ষামূলক সফরে’ সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বৈঠক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম