জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানালেন উপাচার্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এবারো হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। তবে গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা যদি আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার আগেই— অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই— জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। সম্প্রতি এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আসার পরে দেখলাম একটা বিশ্ববিদ্যালয়, সে ছেলেমেয়েদের অনার্স-মাস্টার্স সার্টিফিকেট দিচ্ছে এবং সে পাশ কোর্স এবং অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ভর্তি পরীক্ষা নাই এবং এটা একটা স্কোরিং করা হচ্ছে। একটা তার রেজাল্ট যেটা আছে এসএসসি এবং এইচএসসিতে সেটাকে এভারেজ করে একটা রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে যেটা দেখতে পেয়েছি, যে মেয়েটা ফিজিক্স পড়তে চায়, সে পেয়ে গেছে হয়তো ইতিহাস। অথবা যে বাচ্চাটা একটা সাবজেক্ট পড়তে চায়, কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চায়, সে হয়তো দেখা গেল পেয়ে গেছে সামাজিক বিজ্ঞানের কোনো একটা সাবজেক্ট।
উপাচার্য বলেন, এরকম একটা অবস্থার ভেতরে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের একটু সেনসিটিভিটি আছে। ভর্তি পরীক্ষা সারা দেশব্যাপী ৫০০ উপজেলা, ৬৪টা জেলায় আমার ভর্তি পরীক্ষা হবে। সেটা একটা বিশাল বড় ম্যানেজমেন্ট। সব থেকে বড় এসএসসি এসএসসির মতো একটা বড় ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা পারব কিনা। আমরা অনেকগুলো মিটিং করার পরে, ব্রেইনস্টর্মিং করার পরে আমরা দেখলাম যে আমরা পারব। আমরা ইনশাআল্লাহ দুইটা ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি, সফলভাবে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ছেলেমেয়েরা খুশি এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এবং এতে একটা জিনিস হয়েছে যে ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তার ভিতরে একটা সেন্স অব বিলংগিংনেস। যে আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগে মনে করত যে আমি একটা বোর্ডে জিজ্ঞাসা করলে বলত কোথায় যাচ্ছ? বলে গাজীপুর বোর্ডে যাচ্ছি। এখন বলার চেষ্টা করছে যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। আর সেন্স অব বিলংগিংনেস, তারপরে তার যে একটা প্রাইড। যখন আমার বড় বড় কলেজের সেন্টারে ভর্তি পরীক্ষা হয়, আপনারা দেখবেন যে হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা আসছে ভর্তি পরীক্ষা দিতে, তাদের বাবা-মা আসছে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভর্তি পরীক্ষাটা হচ্ছে। এখানে মেরিটটা এমনভাবে যাচ্ছে যে যেটা পড়তে চাচ্ছে, তার একটা চয়েস, সেটা সুযোগটা পাচ্ছে এবং জেনুইনলি পাচ্ছে, তার স্কোরের উপরে ভিত্তি করে।
এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামীতে ভর্তি পরীক্ষা চলবে। আমাদের অন-ক্যাম্পাসেও ভর্তি পরীক্ষা ছিল না। এখানে আমরা ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছি। তবে আমাদের এবার বড় ভর্তি পরীক্ষাটা চেষ্টা করব গুচ্ছের আগে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে নেওয়া যায় কিনা? গুচ্ছটা হয়তো মার্চের দিকে নিতে পারে। গুচ্ছ যদি মার্চের দিকে নেয়, আমরা চেষ্টা করব জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দিকেই আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নিতে।
তিনি উল্লেখ করেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশি একটা পরিবর্তন হবে না। আগের মতোই প্রশ্ন থাকবে। তবে প্রিপারেশন নিতে হবে। যদি ভালো কলেজ চান, ভালো সাবজেক্ট যদি চান এবং আপনার ভালো ক্যারিয়ার যদি করতে চান, তাহলে আপনাকে মোটামুটি ভালো প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষায় বসতে হবে। এবার অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রিপারেশন নিয়েই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
