সাগরে জেলের জালে বিরল ‘চামড়া মাছ’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
বিরল প্রজাতির টাইটান ট্রিগারফিশ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির টাইটান ট্রিগারফিশ। স্থানীয়ভাবে ‘চামড়া মাছ’ নামে পরিচিত প্রায় ৯শ গ্রাম ওজনের মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসার পর তা দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ফিসে অন্যান্য মাছের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা মাছটি নিয়ে আসেন জেলেরা। দেখতে ভিন্ন ধরনের হওয়ায় মাছটির পরিচয় নিয়ে জেলে ও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ মাছটি কিনতেও আগ্রহ দেখাননি।
জেলে খবির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরছি। বিভিন্ন ধরনের মাছ জালে ধরা পড়লেও এমন মাছ এর আগে কখনো দেখিনি। মাছটি দেখতে অন্য মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
আরেক জেলে মাহাতাব বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালে মাছটি ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর অনেক মানুষ মাছটি দেখতে ভিড় করেন। তবে বিষাক্ত বলে আশঙ্কা করায় কেউ কিনতে চাননি।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান মাছটিকে টাইটান ট্রিগারফিশ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি জানান, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ব্যালিস্টয়েডস ভিরিডেসেন্স। স্থানীয়ভাবে এটি ট্রিগারফিশ বা চামড়া মাছ নামেও পরিচিত।
তিনি বলেন, পিঠের শক্তিশালী কাঁটা, বড় দাঁত ও শক্ত চোয়াল এ মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত এটি মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। তবে প্রজনন মৌসুমে নিজের এলাকা ও ডিম রক্ষার সময় মাছটি আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।
বখতিয়ার রহমান আরও জানান, প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন তলদেশীয় প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় টাইটান ট্রিগারফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে মাছটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এতে সিগুয়াটেরা নামের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই মাছটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আমাদের উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময় জেলেদের জালে নানা ধরনের বিরল ও অল্প পরিচিত সামুদ্রিক প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে, যা আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, টাইটান ট্রিগারফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও গবেষণা ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত, যাতে মাছটির পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয়দের মতে, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময় নানা বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও টাইটান ট্রিগারফিশের মতো মাছ খুব কমই দেখা যায়। বিরল এ মাছটি ধরা পড়ার ঘটনায় কুয়াকাটার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
