মায়ের চিকিৎসার জন্য কান্না করা সেই গ্রাহক পেলেন টাকা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে নিজের জমানো টাকা তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন চট্টগ্রামের গ্রাহক মো. আলাউদ্দিন। সেই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর অবশেষে নিজের চাহিদামতো সম্পূর্ণ টাকা তুলতে পেরেছেন তিনি। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর জোনাল অফিস (সাবেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক) থেকে তিনি এই টাকা পান।
সোমবার দুপুরে মো. আলাউদ্দিনসহ প্রায় ৩৫ জন গ্রাহক ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং কেক কেটে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। যারা নিজেদের আমানতের সম্পূর্ণ টাকা তুলতে চান, তাদের জন্য সুদ বাদ দিয়ে এই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয় এবং সোমবার নির্দিষ্ট শাখা থেকে তাদের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
টাকা পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মো. আলাউদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আম্মা এখন একটু সুস্থ আছেন। মায়ের চিকিৎসায় যে সমস্যাটা হয়েছিল, আমার কান্না সারাদেশের মানুষ দেখছে। মিডিয়াতে সেটা তুলে ধরার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’
তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি আমলে নেন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়। এমডি মহোদয়ের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিনের প্রতিশ্রুতির প্রায় ৯০ শতাংশই তারা বাস্তবে পেয়েছেন।
দীর্ঘ ১১ মাস ধরে টাকা পাওয়ার দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ, মিছিল ও আন্দোলন করার কথা স্মরণ করে আলাউদ্দিন বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি, সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আজকের এই পরিবেশ দেখে খুবই আনন্দ লাগছে। উনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। আপনাদের নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকব।’
এর আগে গত ২৪ আগস্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর জোনাল অফিসে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়ে টাকা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আলাউদ্দিন। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আমানত উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে এই অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার হালিশহর শাখা থেকে টাকা উত্তোলন শেষে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ওই দিন ৩৫ জন গ্রাহক ব্যাংক থেকে নিজেদের চাহিদামতো টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এ সময় গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেন সচল রাখা, হেয়ার কাট বাদ দিয়ে আগে কেটে রাখা টাকা রিফান্ড করা, অ্যাপস চালু করা এবং এফডিআর-ডিপিএস ও ডাবল স্কিমের মতো দীর্ঘমেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে রেজ্যুলেশন শিথিল করার দাবি জানান।
