বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বরখাস্ত
Advertisement
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেনাপোল স্থলবন্দরের সিলগালা করা শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি পণ্য গায়েব ও পণ্য পরিবর্তনের ঘটনায় বন্দরটির সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শেড নম্বর ৩৭-এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে- কাজী রতন বেনাপোল স্থলবন্দরের সার্কেল-২ এর সহকারী পরিচালক হিসেবে শেড নম্বর ১৫ থেকে ১৯, ৩৬, ৩৭ এবং ৩৯ থেকে ৪২-এর দায়িত্বে ছিলেন। গত ১২ মার্চ ভারত থেকে আসা একটি চালানে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের গরমিল ধরা পড়ার পর শুল্ক কর্তৃপক্ষ পণ্য জব্দ করে শেড নম্বর ৩৭-এ সিলগালা করে রাখে। পরে ওই পণ্য সরিয়ে সেখানে অন্য পণ্য রাখার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় ৪ জুন শেড নম্বর ৩৭-এর একটি চাবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী, ট্রাফিক পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজালাল চাবির একটি সেট ভারপ্রাপ্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়েরকে না দিয়ে সহকারী পরিচালক কাজী রতনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর ৬ জুন রাতে সিলগালা শেডে কয়েকজনের অবৈধ প্রবেশ এবং ভেতরের পণ্য সরানোর ঘটনা ঘটে। ওই সময় শেডের একটি চাবি কাজী রতনের কাছে ছিল।
পরদিন ৭ জুন শেডটির সিল কাটা বা পরিবর্তন করা হয়েছে দেখতে পেলেও কাজী রতন কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে ২৬ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে ঘটনার গুরুত্ব ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাকে দায়িত্বে রাখা সমীচীন নয় বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, শেডে সংরক্ষিত পণ্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শেডের চাবি ব্যবস্থাপনা, পণ্য সংরক্ষণ, প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য এবং ওজন ব্যবস্থাপনা আরও কঠোরভাবে তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
