Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

সাগর-রুনী হত্যা

১৩ বছর ধরে কারাবন্দি সেই এনামুল এখন পাগল

Advertisement

Icon

আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

১৩ বছর ধরে কারাবন্দি সেই এনামুল এখন পাগল

Advertisement

সাড়ে ১৪ বছরেও বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা প্রহরী হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাননি মামলাটির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে প্রায় ১৩ বছর ধরে কারাবন্দি সাগর-রুনীর ফ্ল্যাটের নিরাপত্তাপ্রহরী এনামুল জেলখানায় এখন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী।

গ্রেফতার ও গুম-খুনের আশঙ্কায় পরিবারের কেউ তার কখনোই খোঁজ নেননি। এ ঘটনায় এনামুলের বাবাকে তুলে নিয়ে চালানো হয় নির্যাতন। যে কারণে তার শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে। অবশেষে চলতি বছর মারা যান তিনি। তবে তার ছেলের এখনো মুক্তি মেলেনি। তার প্রতীক্ষায় রয়েছে গোটা পরিবার। এনামুলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও।

এনামুল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। সম্প্রতি পিবিআইয়ের (ঢাকা মেট্রো উত্তর) এক তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুলকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ছেলের এ খবর জানতে পেরে মা ফাতেমা বেগমের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দোষী হয়ে থাকতে পারে সন্দেহে আমরা তখন তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও আমার ছেলের কোনো অপরাধ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে ও আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হলো।’

ফাতেমা বেগমের দাবি, ভয় ও পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ছেলের জন্য আইনজীবীও নিয়োগ করতে পারেননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে যদি নির্দোষ হয়ে থাকে, তাহলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত সাগর-রুনী হত্যায় সে জড়িত নয় এ কলঙ্ক থেকে পরিবারকে মুক্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে ছেলের সুচিকিৎসা ও স্বামীকে নির্যাতনের পর দীর্ঘ অসুস্থতায় মৃত্যুবরণের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পর ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রামের বাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় এনামুলের বাবা কালা মিয়াকে। এ নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ হয়। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে ২১ দিন পর তাকে সড়কের পাশে তাকে ফেলে যাওয়া হয়। জানা যায়, অজ্ঞাত স্থানে ২১ দিন তার ওপর চালানো হয় বৈদ্যুতিক শকসহ অমানুষিক নির্যাতন। এতে শরীরে বাসা বাঁধে কঠিন রোগ। ছেলের করুণ অবস্থা দেখে মারা যান কালা মিয়ার বৃদ্ধা মা।

এ বিষয়ে ফাতেমা বেগম বলেন, তাকে নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। ২১ দিন পর তাকে পাওয়া গেলেও ওই ঘটনার পর আমার স্বামী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি, হার্টেরসহ বিভিন্ন কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য জায়গা-জমি বিক্রি করে ৬/৭ লাখ ব্যয় করি। কিন্তু এতেও তাকে বাঁচানো যায়নি। চলিত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।

তিনি আরও বলেন, ছেলেকে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বামী হারিয়েছি, এখন ছেলেও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।

এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেন, আমাদের বিপদে ফেলা হতে পারে এ ভয়েও আমরা মামলা চালাতে যাইনি। আমার নিরপরাধ বাবাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজ আমার ভাই কারাগারে পাগল হয়ে গেছে। এনামুল নির্দোষ হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

গণহত্যার বিচারকে বর্তমান সরকার দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলেছে: শিবির সভাপতি

জুলাই বিপ্লব গণহত্যার বিচারকে বর্তমান সরকার দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলেছে: শিবির সভাপতি

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

গরুর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

গরুর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যুদণ্ড

মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যুদণ্ড

প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ফেরত পেল চা শ্রমিক পরিবার

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ফেরত পেল চা শ্রমিক পরিবার

ঘোরানোর সময় নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ

ঘোরানোর সময় নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ

আরও পড়ুন

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ বিনা দোষে ২২ বছর কারাবাস: ৫ কোটি ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

বিনা দোষে ২২ বছর কারাবাস: ৫ কোটি ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

চট্টগ্রাম বন্দরে পরিবহন শ্রমিককে মারধর, ডেলিভারি বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে পরিবহন শ্রমিককে মারধর, ডেলিভারি বন্ধ

অস্ত্র নয়, জনগণই এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: ফয়জুল করীম

অস্ত্র নয়, জনগণই এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: ফয়জুল করীম

বিয়ের ৩ মাসেই কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যু, লাশ রেখে পালালেন স্বামী-শাশুড়ি

বিয়ের ৩ মাসেই কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যু, লাশ রেখে পালালেন স্বামী-শাশুড়ি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম