Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

খুলনা সিটি নির্বাচন

মঞ্জু-মনা দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত

Advertisement

নূর ইসলাম রকি

নূর ইসলাম রকি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

মঞ্জু-মনা দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত

নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শফিকুল ইসলাম মনা ও মাহফুজুর রহমান। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে গৃহদাহে পুড়ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।নগরীর দুই প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও শফিকুল ইসলাম মনার পুরোনো দ্বন্দ্ব দানা বেঁধে উঠেছে।এখন দুই শিবিরে বিভক্ত খুলনা বিএনপি। কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে বারবার কোন্দল নিরসনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়নি। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টায় জামায়াত। একক মেয়রপ্রার্থী নিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিরোধী দল। কোন্দলের সুরাহা না হলে জাতীয় নির্বাচনে যেমন দুটি আসন হাতছাড়া হয়েছে তেমনি সিটিতেও পরাজয় মেনে নিতে হতে পারে বিএনপির প্রার্থীকে।

খুলনার রাজনীতিতে বরাবরই প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তার সঙ্গে রয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। অপরদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা ও শফিকুল আলম তুহিনেরও রয়েছে বিপুল কর্মী সমর্থক। মঞ্জু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তাকে কোণঠাসা করে রাখে মনা গ্রুপ। তিনি দলে আসার পর বিভাজন আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। মাঝে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল দুপক্ষকে এক করার চেষ্টা করেন।  

নগরীর খানজাহান আলী, দৌলতপুর, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা, সদর থানাসহ ৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন। এখন পর্যন্ত নগরীতে ভোটার পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৭৭ হাজার ৯০৬ ও নারী দুই লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন। ১৯৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেসিসিতে ২০ জন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির ছিলেন ৮ জন এবং আওয়ামী লীগের পাঁচজন।

খুলনা সিটিতে বরাবরই বিএনপির দাপট ছিল। আওয়ামী লীগের সময়েও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী জয়ী হন এখানে। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে জয়ী হলেও খুলনা নগরীর একটি আসন হেরেছে।  

বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক পদে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কম গুরুত্ব দেওয়াসহ নানা কারণে এই পরাজয় ঘটে। মেয়র পদেও তিনিই এবারও দাবিদার।


নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বিএনপি-জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা পোস্টার সাঁটানো শুরু করেছেন। পাশাপাশি তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারা মোড়ে মোড়ে পোস্টার, ব্যানার লাগানোসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।

কেসিসির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক দিয়ে কেসিসি পরিচালনা করে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক পদ দেওয়া হয়। এখন অবধি মেয়র প্রার্থী হিসাবে বিএনপির পক্ষে তিনিই মাঠে রয়েছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জহির, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর প্রমুখ।

এদিকে জামায়াতের একক মেয়র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। সাংগঠনিকভাবে কেসিসি নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। কারণ গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাদের একমাত্র টার্গেট কেসিসির মেয়রের চেয়ারটি। তারা রাজনৈতিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়েই কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। অথচ এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো পদেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। 

এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন এসএম মুশফিকুর রহমান। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালে কেসিসি নির্বাচন করেছিলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি মেয়র পদটি কোনোভাবেই হারাতে চায় না বিএনপি। প্রতিনিয়ত প্রশাসক মঞ্জু তার রুটিন কাজের পাশাপাশি দলীয় কাজেও অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু ডেঙ্গু মোকাবিলা, জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে তাকে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় অন্তর্কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বশেষ কেসিসি বাজেট মিটিংয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউকে দেখা যায়নি। তবে নেতাদের দাবি, সব সংকট কাটিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মেয়র পদটি প্রধানমন্ত্রীকে ‘উপহার’ দেবেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানান, মহানগর বিএনপির সঙ্গে মঞ্জু-মনা ভাই গ্রুপের দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি। যার প্রভাব গত সংসদ নির্বাচনে পড়েছিল। আগামীতে এই গ্রুপিং যদি থেকে যায়, তবে মেয়র পদটিও হারাতে পারে বিএনপি।

খুলনার ইতিহাসে মেয়র পদে কোনো দিন জামায়াত আসেনি; কিন্তু এবার অনেকটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি খুলনার স্থানীয় দলীয় অন্তর্কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। খুলনায় বিএনপি দেখতে যতটা ঐক্যবদ্ধ, ভেতরটা ততই ফাঁকা। নেতাদের ভাষ্য-এই সংকট মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিশিয়ে রাজনীতি করতে হবে। বিএনপি নেতাদের অন্তর্কোন্দলের কারণে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতৃত্ব সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দলের কাছে মেয়র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’

জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত দ্বিতীয়বারের মতো এখানে মেয়র নির্বাচন করছে। এর আগে ছাতা প্রতীক নিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন করেছিলেন। আমরা কেসিসি মেয়র পদে জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী। খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসন নিয়ে কেসিসির নির্বাচন। গত সংসদ নির্বাচনে এই দুটি আসন থেকে সাধারণ মানুষ আমাদের পক্ষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। আশা করি কেসিসি নির্বাচনে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’

কেসিসির বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘দল থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। আগে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন। এরপর সিটি নির্বাচন। আমাকে প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটি পালন করে যাচ্ছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরবাসীর জন্য কাজ করছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছুই করব না।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে খুলনায় মিছিল-সমাবেশ

দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে খুলনায় মিছিল-সমাবেশ

ড্রামের ভেলায় স্বপ্ন পাড়ি

ড্রামের ভেলায় স্বপ্ন পাড়ি

খুলনায় ৪ বিদেশি পিস্তলসহ যুবক আটক

খুলনায় ৪ বিদেশি পিস্তলসহ যুবক আটক

মেয়র পদে বিএনপিতে হাফ ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী মাঠে

গাজীপুর সিটি মেয়র পদে বিএনপিতে হাফ ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী মাঠে

ফ্ল্যাট থেকে বিউটিশিয়ানের লাশ উদ্ধার

ফ্ল্যাট থেকে বিউটিশিয়ানের লাশ উদ্ধার

বেরিয়ে এলো আয়মানের মৃত্যুর রহস্য

‘ভাত চুরির’ অপবাদ বেরিয়ে এলো আয়মানের মৃত্যুর রহস্য

আরও পড়ুন

খুলনা সিটি নির্বাচন মঞ্জু-মনা দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত

মঞ্জু-মনা দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত

পাটগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

পাটগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ও এসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ও এসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

কারাগারে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

কারাগারে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম