Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

হিমবাহের বরফ গলা ঠেকাবে ভেড়ার পশম!

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

হিমবাহের বরফ গলা ঠেকাবে ভেড়ার পশম!

প্রতিবছর সুইজারল্যান্ডে উৎপাদিত ভেড়ার পশমের প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই ফেলে দেওয়া হয়।

Advertisement

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে । বরফের এই ক্ষয় ঠেকাতে এবার অভিনব এক উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা— আর তা হলো ভেড়ার পশম।

আল্পস পর্বতমালায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রীষ্মকালে হিমবাহের বরফ ও তুষারের ওপর কৃত্রিম ত্রিপল বা সিনথেটিক কভার বিছিয়ে দেওয়া হয়। 

এর উদ্দেশ্য ছিলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে বরফে তাপ শোষণের পরিমাণ কমানো। তবে এসব কভার সাধারণত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা থেকে পরিবেশদূষণকারী মাইক্রোফাইবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই সমস্যার বিকল্প হিসেবে এবার পশম দিয়ে তৈরি কভার ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ‘কিপ ইট উল’ নামের প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন সামিট ফাউন্ডেশন ও ইউনিভার্সিটি অব লজান। পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের তসানফ্লেরন হিমবাহে বরফ গলার গতি কমাতে ভেড়ার পশম কতটা কার্যকর হতে পারে, তা পরীক্ষা করাই প্রকল্পটির লক্ষ্য।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক তিমোথি স্টেইনার বলেন, তারা এমন একটি বিকল্প উপাদান খুঁজছিলেন, যা পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে অব্যবহৃত থেকে যাওয়া বিপুল পরিমাণ ভেড়ার পশমেরও একটি ব্যবহার খুঁজে বের করা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিবছর সুইজারল্যান্ডে উৎপাদিত ভেড়ার পশমের প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই ফেলে দেওয়া হয়।

গত জুনে সুইস প্রতিষ্ঠান ফিসোলানের তৈরি দুটি পরীক্ষামূলক পশমের কম্বল তসানফ্লেরন হিমবাহের প্রায় ২০০ বর্গমিটার এলাকায় বিছিয়ে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মজুড়ে গবেষকেরা প্রচলিত জিওটেক্সটাইল কভারের সঙ্গে পশমের তৈরি কম্বলের কার্যকারিতা তুলনা করেন।

প্রাথমিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর নেওয়া পরিমাপে দেখা গেছে, সিনথেটিক কভারের মতোই পশমের কম্বলও হিমবাহের বরফ গলার হার কমাতে সক্ষম হয়েছে।

ফিসোলানের কর্মকর্তা নিকলাউস সাগেসার বলেন, পশমের তৈরি উপাদানটির স্থায়িত্ব দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন। শুরুতে তার ধারণা ছিল, উপাদানটি হয়তো প্রয়োজনীয় স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারবে না।

গবেষণা দলের শিক্ষার্থী এলিয়ট গাফিও বলেন, আমরা কী ফল পাব, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। এখন আমরা এমন একটি ফলাফল পেয়েছি, যা অবিশ্বাস্যভাবে ভালো কাজ করেছে।

তবে প্রকল্পের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ভেড়ার পশমের কম্বল কোনোভাবেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সমাধান নয়।

সুইজারল্যান্ডের মোট হিমবাহ এলাকার মাত্র প্রায় ০.০২ শতাংশ বর্তমানে এ ধরনের সুরক্ষামূলক কভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহ গলার দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা ঠেকানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো। এসব গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস জীবাশ্ম জ্বালানি।

ফলে ভেড়ার পশমের কম্বল স্থানীয়ভাবে হিমবাহের বরফ গলার গতি কমাতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হঠাৎ বন্যায় তিন জেলায় দুর্ভোগ

উজানের ঢল পদ্মায় হঠাৎ বন্যায় তিন জেলায় দুর্ভোগ

হিমবাহধসের আগে ‘অস্বাভাবিক গরম’, বেরিয়ে এলো নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ

হিমবাহধসের আগে ‘অস্বাভাবিক গরম’, বেরিয়ে এলো নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

নদীগর্ভে বসতভিটা-ফসলি জমি, মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার

নদীগর্ভে বসতভিটা-ফসলি জমি, মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার

‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার ভাই-বোন পারেনি’

নেপালে বন্যা ‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার ভাই-বোন পারেনি’

ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনদিন পর শোনা গেল শিশুর কান্নার শব্দ, অতঃপর...

ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনদিন পর শোনা গেল শিশুর কান্নার শব্দ, অতঃপর...

আরও পড়ুন

ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, সার্বিয়াতে ঘটেছিল কী

ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, সার্বিয়াতে ঘটেছিল কী

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব,  বিদ্যুৎহীন ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

নেতানিয়াহুকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান, কিন্তু...

নেতানিয়াহুকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান, কিন্তু...

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম