ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, সার্বিয়াতে ঘটেছিল কী
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
সদ্য সাবেক হওয়া সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জনঅসন্তোষের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ।
দেশটির রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের মেয়াদে সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।
এর আগে গত জুনেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ভুচিচ। এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন না।
২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রগ্রেসিভ পার্টির শাসনে নানা অনিয়মের ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। রেলস্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং প্রকল্পটিকে সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামেনি। চলতি গ্রীষ্মেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুচিচের পদত্যাগের পর সার্বিয়ায় দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ভুচিচ জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলমান বিক্ষোভের দাবির অন্যতম বিষয় ছিল আগাম নির্বাচন।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন সংসদের স্পিকার ও প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী আনা ব্রনাবিচ।
পদত্যাগের আগে ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সমর্থক রয়েছেন।
দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা শাস্তির প্রক্রিয়া চলছিল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হবে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন ভুচিচ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানালেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতিও অনুসরণ করেছেন ভুচিচ।

-6ab9f23a05215.jpg)
