Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গাজার ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গাজার ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজায় ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা হারিয়ে ফেলেছে বছরের পর বছর ধরে শেখা অনেক মৌলিক দক্ষতা। ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলো। এখন অস্থায়ী তাঁবুতে ফিরে এসে সেই দক্ষতাগুলো আবার শেখার চেষ্টা করছে শিশুরা। 

‘মিডল ইস্ট আইয়ে’র প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ১৩ বছর বয়সি হেবা আল-আতার গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-জাওয়ায়েদায় ‘রাইট টু লিভ সোসাইটি’ (আরএলএস) কেন্দ্রে নিয়মিত ক্লাস করছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লাসে পৌঁছানোর পর অন্য শিশুদের সঙ্গে তাঁবুর মাটিতে বসেই চলছে তার শেখার চেষ্টা।

গাজায় ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত এক হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। যুদ্ধের আগে এসব শিশুর অনেকেই আরএলএসের মাধ্যমে শিক্ষা, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা পেত। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির গাজাজুড়ে তিনটি কেন্দ্র ও প্রায় ২০০ কর্মী ছিল।

হেবার বাবা আল-আতার জানান, যুদ্ধের আগে তার মেয়ে পড়াশোনা, কথা বলা, বিষয়বস্তু বোঝা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক দক্ষতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাস্তুচ্যুতি ও আতঙ্কের মধ্যে সে এসব দক্ষতার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

অন্যান্য পরিবারের অভিজ্ঞতাও একই। ১৩ বছর বয়সি সাযা আবেদ রাব্বোর মা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তার মেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ত এবং তার কাছে আসত। দীর্ঘদিনের ভয় এবং বাস্তুচ্যুতির কারণে সে টয়লেট ব্যবহারের মতো মৌলিক দক্ষতাও হারিয়ে ফেলে।

আরএলএসের পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিচালক রাউফা সালামা বলেন, যুদ্ধের মানসিক আঘাত শিশুদের যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার মতো দক্ষতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে সপ্তাহে এক বা দুটি নতুন ডাউন সিনড্রোম কেস আসত, এখন সেখানে চার থেকে পাঁচটি নতুন কেস আসছে বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে আরএলএস ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালু করে। বর্তমান গাজা উপত্যকার তিনটি স্থানে অস্থায়ী তাঁবুতে ডাউন সিনড্রোম এবং অটিজমে আক্রান্ত এক হাজারের বেশি শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ধ্বংসযজ্ঞ ও অবরোধের কারণে শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বেশ সংকট রয়েছে। শিক্ষকরা ত্রাণসামগ্রীর কার্ডবোর্ড ও রঙিন কাগজ ব্যবহার করে শিক্ষণ উপকরণ তৈরি করছেন।

তবুও ধীরে ধীরে শিশুরা নিজেদের হারানো দক্ষতা ফিরে পাচ্ছে। যোগাযোগ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পড়াশোনা এবং বিপদ চেনার মতো বিষয়গুলো আবার শেখানো হচ্ছে তাদের। 

হেবার বাবা আরও বলেন, আরএলএসে ফেরার পর তার মেয়ের জীবনে পরিবর্তন এসেছে এখন পড়াশোনা তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।  সে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে এবং সেখানে শেখা বিষয় ও বন্ধুদের নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে।

যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে নিরাপদ পরিবেশে শিশুদের পড়াশোনা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই এখন পরিবারগুলোর প্রধান প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

গাজায় যা করেছি, পশ্চিম তীরেও তাই করতে হবে: ইসরাইলি মন্ত্রী

গাজায় যা করেছি, পশ্চিম তীরেও তাই করতে হবে: ইসরাইলি মন্ত্রী

জাতিসংঘে গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যার’ নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘে গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যার’ নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

গাজা ইস্যুতে মুখ খুললেন এড শিরান

গাজা ইস্যুতে মুখ খুললেন এড শিরান

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের ছেলেসহ নিহত ৪

ইসরাইলি হামলা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের ছেলেসহ নিহত ৪

গাজায় ইসরাইলি হামলা ‘বিপর্যয়কর ও অযৌক্তিক’: এড শিরান

গাজায় ইসরাইলি হামলা ‘বিপর্যয়কর ও অযৌক্তিক’: এড শিরান

নেই নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা, বাধ্য হয়েই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস ফিলিস্তিনিদের

নেই নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা, বাধ্য হয়েই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস ফিলিস্তিনিদের

আরও পড়ুন

ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, সার্বিয়াতে ঘটেছিল কী

ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, সার্বিয়াতে ঘটেছিল কী

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডব,  বিদ্যুৎহীন ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

নেতানিয়াহুকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান, কিন্তু...

নেতানিয়াহুকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান, কিন্তু...

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম