মুকেশ আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক নিয়োগ,সমালোচনায় নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ এএম
ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে সাসটেইনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ দেওয়া হয়েছে।
তবে পরিবেশবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, তেল ও গ্যাস ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী একজন ব্যক্তিকে কীভাবে টেকসই উন্নয়নের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
কে এই অনন্ত আম্বানি?
৩১ বছর বয়সি অনন্ত আম্বানি ভারতের অন্যতম ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ছেলে। মুকেশ আম্বানি মূলত তেল ও গ্যাস ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং তার রিলায়েন্স গ্রুপের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার।
অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী বোর্ডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দায়িত্বে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৯০ বিলিয়ন পাউন্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিতর্কিত ‘ভান্তারা’
গুজরাটে পরিবারের তেল শোধনাগারের কাছে অনন্ত আম্বানি ভান্তারা নামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও প্রাণি পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাণি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি সিংহ, ২৫০টি চিতাবাঘ এবং ৯০০টি কুমির রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বিভিন্ন সংরক্ষণবাদী সংগঠন অতীতে প্রশ্ন তুলেছে, এত বিপুলসংখ্যক প্রাণী—বিশেষ করে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণি —কীভাবে সেখানে এসেছে।
তবে ভান্তারা কোনো অনিয়মের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়নি। আম্বানি পরিবার ও ভান্তারা বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগও অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো প্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও যত্ন নেওয়া।
‘এটা কি রসিকতা?’
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের খবর প্রকাশের পর ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশবিদ ও সংরক্ষণকর্মীদের মধ্যে বিস্ময় ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ভারতের বিশিষ্ট পরিবেশচিন্তাবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ বলেন, এই নিয়োগ তার কাছে ‘রহস্যময়’ মনে হয়েছে। তার মতে, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখা আরও অনেক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা এ ধরনের সম্মানের জন্য বেশি যোগ্য।
অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ে কাজ করা ভারতীয় গবেষক ভূবন ম্যাঙ্গালোর, যিনি ভান্তারা নিয়ে গবেষণা করছেন, সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—‘এটা কি রসিকতা?’
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের স্থানীয় শাখার প্রধান অধ্যাপক ম্যাট পেরিও জানিয়েছেন, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এই নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ধনকুবেরদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক লাইলা মেহতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি অর্থায়ন কমে গেলে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অর্থ একসময় একাডেমিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হওয়া উচিত ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা—তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া নয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠন অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল-এর গবেষণা পরিচালক লর্ন স্টকম্যান বলেন, জলবায়ু সংকটের সময়ে বিশ্ব যখন তেল ও গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত কমানোর দাবি জানাচ্ছে, তখন সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
অনন্ত আম্বানির নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়
এপ্রিল মাসে অনন্ত আম্বানি ভান্তারা ইউনিভার্সিটি চালু করেন। এটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ভেটেরিনারি বিজ্ঞানের ওপর বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য অনন্ত আম্বানির নিয়োগের সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ভান্তারার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্ত আম্বানির কাজ এবং রিলায়েন্স গ্রুপকে সবুজ জ্বালানির দিকে রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


