নারীর মাসিক হলে শবে কদরের ইবাদত করবেন কিভাবে?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ পিএম
শবে কদরে ঋতুবতী নারীর ইবাদত। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুণ্যময় রাত শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ইবাদতের সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তবে অনেক নারী দুশ্চিন্তায় ভোগেন যে, রমজানের শেষ দশকে মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হলে তারা কি এই মহিমান্বিত রাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর উত্তর হলো— না, তারা বঞ্চিত হবেন না। নামাজ ও তিলাওয়াত ছাড়াও বেশ কিছু ইবাদতের মাধ্যমে নারীরা শবে কদরের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে পারেন।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে (নামাজ আদায় করবে), তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি ১৯০১, মুসলিম ৭৬০)
রমজানের শেষ দশক ও শবে কদরের ফজিলত অর্জনের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সময়টিকে বিশেষভাবে ইবাদতে কাটাতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ الأَوَاخِرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ
‘রমজানের শেষ দশক শুরু হলে নবী (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদতে লেগে যেতেন, রাত জেগে থাকতেন এবং তার পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি ২০২৪, মুসলিম ১১৭৪)
শবে কদরের ফজিলত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান। শবে কদরের সময় কোনো নারীর মাসিক (হায়েজ) শুরু হলে তিনি এই রাতের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হন না। তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিনি নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত (মুসহাফ স্পর্শ করে) এবং কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে পারবেন না।
এর বাইরে তিনি অন্যান্য বহু ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতের ফজিলত অর্জন করতে পারেন। যেমন— জিকির-আজকার করা, দোয়া করা, দরুদ পড়া, আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানো ইত্যাদি।
পিরিয়ড চলাকালীন শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নারীরা নিচের কাজগুলো করতে পারবেন না:
নামাজ আদায় করা।
কুরআন মাজিদ স্পর্শ করে তিলাওয়াত করা।
কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।
ঋতুবতী নারীরা শবে কদরে যেভাবে ইবাদত করতে পারেন—
১. জিকির-আজকার করা
ঋতুবতী নারীরা রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে বেশি বেশি জিকির করতে পারেন। যেমন—
১. سُبْحَانَ اللَّهِ— সুবহানাল্লাহ
২. الْحَمْدُ لِلَّهِ— আলহামদুলিল্লাহ
৩. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
৪. اللَّهُ أَكْبَرُ— আল্লাহু আকবার
৫. سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ— সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম
এগুলো বেশি বেশি পাঠ করলে আল্লাহর স্মরণে রাত কাটানো সম্ভব হয় এবং ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হয়।
২. ইস্তিগফার পাঠ করা
রমজানের শেষ দশকে কোনো নারীর মাসিক শুরু হলে তিনি বেশি বেশি ইস্তিগফার করতে পারেন। যেমন—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
ইস্তিগফার মানুষের গুনাহ মাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৩. আল্লাহর কাছে দোয়া করা
শবে কদরের রাতে বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নারীরা এই রাতে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করতে পারেন।
নবী (সা.) বলেছেন—
الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ
‘দোয়া-ই ইবাদত।’ (তিরমিজি ২৮৯৫)
অতএব, কোনো নারী যদি মাসিক অবস্থায় শবে কদর পান, তবুও তিনি জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ার মাধ্যমে এই বরকতময় রাতের ফজিলত লাভ করতে পারেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের বরকত অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
