Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

প্রতি বছর শবে কদর কি একই দিনে হয়?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

প্রতি বছর শবে কদর কি একই দিনে হয়?

শবে কদর। ছবি: সংগৃহূত

Advertisement

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর বছরের শ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত রাত। পবিত্র কুরআনে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। এই মহিমান্বিত রাত রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে সংঘটিত হয়। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন রাতটি লাইলাতুল কদর—তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন হাদিসের আলোকে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহরা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ

‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা আল-কদর: আয়াত ৩)

রমজানের ২১তম রাত কি শবে কদর?

কিছু আলিমের মতে, রমজানের ২১তম রাতেই লাইলাতুল কদর হতে পারে। ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাঁর সুনানে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফেঈ (রহ.) ২১তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন।

এই মতের পক্ষে দলিল হিসেবে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে রমজানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করেছিলাম। ২০ তারিখ সকালে তিনি বের হয়ে বললেন—

إِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي الْوِتْرِ

‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা তা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করো।’

তিনি আরও বলেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা করছি। পরে ২১তম রাতে বৃষ্টি হলে নবীজি (সা.)-কে সত্যিই কাদা-পানিতে সিজদা করতে দেখা যায়। (বুখারি ২০১৬)

মুহাদ্দিসদের অনেকেই এ হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে বছর লাইলাতুল কদর ২১তম রাতে হয়েছিল।

রমজানের শেষ সাত রাতে শবে কদর

আলেমের আরেক দলের মতে, লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ সাত রাতের কোনো একটিতে হতে পারে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত—

الْتَمِسُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ، فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلَا يُغْلَبَنَّ عَلَى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ

‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো। আর যদি কেউ দুর্বল বা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে।’ (মুসলিম ২৬৫৫)

রমজানের ২৩তম রাত কি শবে কদর?

সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.) রমজানের ২৩তম রাতকে কদরের রাত বলে মনে করতেন। এ বিষয়ে একটি হাদিস সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম ২৬৬৫)

শবে কদর কি ২৪তম রাতে?

তাবিঈ হজরত ইকরিমা (রহ.) বলেন, সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—

‘তোমরা ২৪তম রাতে (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি ২০২২)

রমজানের ২৭তম রাত শবে কদর

অনেক আলেমের মতে, লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭তম রাতে হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই মত দিয়েছেন  হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এবং হজরত আবু হানিফা (রহ.)-সহ আরও অনেক আলেম।

হজরত উবাই ইবনু কাব (রা.) কসম করে বলতেন—

‘সাতাশতম রাতই লাইলাতুল কদর।’ (মুসলিম ২৬৬৮)

শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

‘রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি ২০১৭)

জোড় রাতেও হতে পারে শবে কদর

হজরত ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) একটি হাদিসের আলোকে বলেন, যদি রমজান মাস ৩০ দিনের হয়, তবে শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

الْتَمِسُوهَا فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى، وَسَابِعَةٍ تَبْقَى، وَخَامِسَةٍ تَبْقَى، وَثَالِثَةٍ تَبْقَى، وَآخِرِ لَيْلَةٍ

‘তোমরা (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধান করো— অবশিষ্ট নবম, সপ্তম, পঞ্চম, তৃতীয় এবং শেষ রাতে।’ (তিরমিজি ৭৯৪)

এই হিসেবে যদি রমজান ৩০ দিনের হয়, তাহলে ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮তম রাতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

নবীজি (সা.) শেষ দশ রাতেই বেশি ইবাদত করতেন

এ কারণেই দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই অধিক ইবাদত করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ

‘রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পরিমাণ ইবাদত করতেন, অন্য কোনো সময়ে এত বেশি করতেন না।’ (মুসলিম ২৬৭৮)

হাদিসগুলোর মাঝে সমন্বয়

অনেক প্রখ্যাত আলেম মনে করেন, লাইলাতুল কদর প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোনো তারিখে হয় না; বরং বছরভেদে তা পরিবর্তিত হতে পারে। এ মত দিয়েছেন হজরত ইমাম মালিক, আহমাদ, ইসহাক, সুফিয়ান সাওরি, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম নববি, ইবনু হাজার, ইবনু উসাইমিন (রাহ.) এই মত দিয়েছেন।

তাবিঈ আবু কিলাবাহ (রহ.) বলেন—

‘লাইলাতুল কদর শেষ দশকের রাতগুলোর মাঝে স্থানান্তরিত হয়।’ (তিরমিজি ৭৯২)

কেন কদরের রাত গোপন রাখা হয়েছে?

মুহাদ্দিসদের মতে, লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো— মুমিনরা যেন শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদতে মনোনিবেশ করে।

হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) একবার লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত জানাতে বের হয়েছিলেন, কিন্তু দুই ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে তা তাঁর স্মৃতি থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। তখন তিনি বলেন—

عَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ

‘সম্ভবত এর মধ্যেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে।’ (বুখারি ২০২৩)

উল্লেখিত সব আলোচনা থেকে বোঝা যায়, লাইলাতুল কদর প্রতি বছর একই তারিখে হয়— এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোই সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। তাই মুমিনদের উচিত, শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রোজার আগেই কারসাজি

তেল পেঁয়াজ ডাল চিনি ছোলা খেজুরের দাম বাড়ছে রোজার আগেই কারসাজি

রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত

রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত

রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

২০৩০ সালে দুবার রমজান, এই বিরল ঘটনার নেপথ্যে কী

২০৩০ সালে দুবার রমজান, এই বিরল ঘটনার নেপথ্যে কী

পারিবারিকভাবে কি জন্মদিন পালন করা যাবে?

ইসলাম কী বলে পারিবারিকভাবে কি জন্মদিন পালন করা যাবে?

আরও পড়ুন

জোহরের ফরজের আগের ৪ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?

জোহরের ফরজের আগের ৪ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

যে বিয়েতে বরকতের দোয়া করেছিলেন নবীজি (সা.)

যে বিয়েতে বরকতের দোয়া করেছিলেন নবীজি (সা.)

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম