অফিস পলিটিক্সের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ এএম
ছবি: এআই জেনারেটেড।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আধুনিক কর্মক্ষেত্রে ‘অফিস রাজনীতি’ বা কর্পোরেট পলিটিক্স একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও উদ্বেগজনক বিষয়। শিল্প খাত, বয়স বা লিঙ্গভেদ নির্বিশেষে প্রায় প্রতিটি পেশাজীবীই কোনো না কোনোভাবে এর মুখোমুখি হন। গবেষণা অনুযায়ী, বড় আকারের প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক খাত, আইন ও রাজনীতির মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে তাদের অসন্তোষ ও মানসিক অশান্তির মূল কারণ হিসেবে অফিস রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। ১,০০০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন এমন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মীই কোনো না কোনো রাজনীতি বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কর্মক্ষেত্রে রাজনীতি মূলত মাইক্রোম্যানেজমেন্ট বা অতিরিক্ত নজরদারি, অন্যের কাজের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নেওয়া, নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো (বলির পাঠা বানানো), উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তোষামোদী, তথ্য গোপন রাখা এবং গুজব ছড়িয়ে সহকর্মীদের ওপর আস্থা নষ্ট করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ঈর্ষা, হীনমন্যতা, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের লোভ, পরিবর্তনকে ভয় পাওয়া, সম্পদ বা সুযোগের ভাগ নেওয়া এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই মূলত কর্মক্ষেত্রে এসব রাজনৈতিক আচরণের জন্ম হয়।
অফিস রাজনীতির প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মনোবল ও কাজের সন্তুষ্টি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। গ্যালাপ-এর তথ্যমতে, নিয়মিত রাজনীতির শিকার হওয়া ৪২ শতাংশ কর্মীই তাদের কাজ থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এটি কর্মীদের মানসিক চাপ ও ‘বার্নআউট’ বাড়িয়ে দেয়, যা সার্বিক সহযোগিতা ও দলগত কাজের পরিবেশ ধ্বংস করে।
একইভাবে প্রতিষ্ঠানের দিক থেকেও এটি মারাত্মক ক্ষতিকর—যেসব প্রতিষ্ঠানে অফিস রাজনীতি বেশি, সেখানে কর্মীদের কাজে যুক্ত থাকার হার মাত্র ২৭ শতাংশে নেমে আসে।
এ ছাড়া ওয়ার্ক ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৭ শতাংশ কর্মী কেবল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক পরিবেশের কারণেই চাকরি ছেড়ে দেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও ব্যবসায়িক সাফল্য ব্যাহত হয়।
কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রতিকারের উপায়
বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে অফিস রাজনীতি সামলাতে কর্মীদের জন্য বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণ করেছেন:
শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকা: যে কোনো পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
তথ্য ও প্রমাণ জমা রাখা: অনৈতিক আচরণের তারিখ, সময় ও বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখা।
খোলামেলা আলোচনা ও মতামত স্পষ্ট করা: ভুল বোঝাবুঝি হলে সরাসরি কিংবা বিশ্বস্ত সহকর্মী বা এইচআর-এর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া: সৎ ও একাতপরায়ণ সহকর্মীদের সঙ্গে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও বলয় গড়ে তোলা।
অন্যদিকে, নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘এমপ্লয়ি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ (ইএপি)-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, দ্বন্দ্ব নিরসনবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং আইনি ঝুঁকি এড়াতে একটি স্বচ্ছ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

