Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন?

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো যেন উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন—এরপর শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ঘুম ভেঙে গেল। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কখনো শুধু পা, আবার কখনো পুরো শরীরেই আকস্মিক ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হিপনিক জার্ক’।

ঘুমিয়ে পড়ার সময় হওয়া এই অনিচ্ছাকৃত পেশির সংকোচনের সঙ্গে কখনো বুক ধড়ফড়, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঘাম হওয়া কিংবা হঠাৎ চমকে ওঠার মতো অনুভূতিও থাকতে পারে। সাধারণত এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে ঘন ঘন বা অস্বাভাবিকভাবে ঘটলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

হিপনিক জার্ক আসলে কী?

জেগে থাকা থেকে ঘুমের দিকে যাওয়ার সময় শরীরের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। এই পরিবর্তনের মধ্যেই কখনো হঠাৎ পেশিতে অনিচ্ছাকৃত সংকোচন তৈরি হয়। তখন মনে হতে পারে শরীর শূন্যে পড়ে যাচ্ছে বা কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক শক লাগছে।

গবেষণা অনুযায়ী, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে ঝাঁকুনিটি এতটাই হালকা হয় যে তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না। আবার কারও ক্ষেত্রে ঝাঁকুনি এত তীব্র হতে পারে যে ঘুম ভেঙে যায়।

ঘুমের কোন সময়ে এটি ঘটে?

ঘুমকে সাধারণত NREM ও REM—এই দুই প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা হয়। NREM ঘুমের শুরুর দিকের পর্যায়গুলোতে শরীর জাগ্রত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে গভীর ঘুমের দিকে যায়।

হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের প্রথম দিকের পর্যায়েই দেখা যায়। এ সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি, শরীরে শক লাগার মতো সংবেদন, পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বপ্ন বা ভ্রমের অনুভূতি এবং হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় ঘটতে পারে।

কেন হয় হিপনিক জার্ক?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু বিষয় এর মাত্রা বা ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুমের ঘাটতি: খুব বেশি ক্লান্ত থাকা, অনিয়মিত ঘুম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া হিপনিক জার্কের প্রবণতা বাড়াতে পারে।

ক্যাফেইন ও নিকোটিন: অতিরিক্ত কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এবং নিকোটিন সেবন শরীরকে বেশি সক্রিয় অবস্থায় রাখতে পারে। ফলে ঘুমের সময় এ ধরনের ঝাঁকুনি বাড়তে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তার কারণে শরীর ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি শিথিল হতে না পারলে ঘুমের সময় আকস্মিক ঝাঁকুনির প্রবণতা বাড়তে পারে।

অনিয়মিত ঘুম: দীর্ঘদিনের অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও হিপনিক জার্কের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি দেওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন—

  • পেশির ঝাঁকুনি নিয়মিত বা খুব ঘন ঘন হওয়া
  • প্রতিদিন ঘুমের সময় এমন ঘটনা ঘটতে থাকা
  • ঘুমের মধ্যে খিঁচুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া
  • ঘুমের সময় অতিরিক্ত নাক ডাকা
  • মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া
  • ঘুমের মধ্যে শরীর বা পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া
  • ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া

এ ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে শুধু হিপনিক জার্ক ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ পুনরাবৃত্ত পেশির ঝাঁকুনি কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তাই স্বাভাবিকভাবে মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি হলে সাধারণত দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তবে এর সঙ্গে অস্বাভাবিক বা গুরুতর কোনো উপসর্গ যুক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .