১০ ঘণ্টা বসে থাকার ক্ষতি কি ১ ঘণ্টার ব্যায়ামে পুষবে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করেন, কিন্তু সকালে বা সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা ব্যায়াম করে মনে করেন দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতি পুষিয়ে যাচ্ছে? হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। প্রতিদিন এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করলেও টানা ১০ ঘণ্টা বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়।
তাদের মতে, অতিরিক্ত বসে থাকার অভ্যাস শরীরে বিপাকীয় নানা সমস্যা তৈরি করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সারাদিন বসে থাকা কেন ক্ষতিকর?
সার্কুলেশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন ব্যক্তি জেগে থাকা সময়ের প্রায় অর্ধেকই বসে কাটান। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যও বলছে, দেশটির বড় একটি অংশের মানুষ শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে স্বাস্থ্যের ওপর এমন কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা অনেকেই উপলব্ধি করেন না। যারা সবচেয়ে বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। একই সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে শরীরের চর্বি ও শর্করা বিপাকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন শরীরের জন্য শর্করা বিপাককে কঠিন করে তোলে। এ সময় রক্ত সঞ্চালনও ধীর হয়ে যায়, যা অজান্তেই ওজন বাড়ার পরিবেশ তৈরি করে। মানুষের শরীর মূলত চলাফেরার জন্য তৈরি—তাই শরীরচর্চাকে তিনি ‘ওষুধের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এক ঘণ্টার ব্যায়াম কি যথেষ্ট?
অনেকেই মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে ৮-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকার পর জিমে এক ঘণ্টা ব্যায়াম করলেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সঠিক ধারণা নয়। তারা বলেন, সকালে এক ঘণ্টা ব্যায়াম করা অবশ্যই ভালো এবং কোনো ব্যায়াম না করার চেয়ে এটি অনেক ভালো। কিন্তু সকালে এক ঘণ্টার শরীরচর্চা দিনের বাকি ১০ ঘণ্টা নিষ্ক্রিয় থাকার ক্ষতি পূরণ করতে পারে না।
তাদের মতে, শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়; বরং পুরো দিনজুড়ে শরীরকে সক্রিয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করা যেতে পারে।
যেমন—লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা, দুপুরের খাবারের সময় কিছুটা হাঁটা, ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়িয়ে থাকা, একটানা বৈঠকের মাঝে কয়েকবার ‘এয়ার স্কোয়াট’ করা এবং সুযোগ পেলেই বাইরে বেরিয়ে হাঁটাচলা করা।
চিকিৎসকদের মতে, দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীরকে সচল রাখাই মূল বিষয়। কারণ নিয়মিত নড়াচড়া ও সক্রিয় থাকাই শরীরের জন্য এক ধরনের ‘ওষুধ’।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

