ঋতু পরিবর্তনে চুল পড়ছে? কখন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋতু বদলের সময় চুল পড়ার পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যাওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চুল ঝরতে শুরু করলে সেটিকে শুধু ‘সিজনাল হেয়ার ফল’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন, কতদিন ধরে সমস্যা চলছে এবং চুলের ঘনত্বে পরিবর্তন হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন, বালিশ, চিরুনি কিংবা গোসলের সময় আগের তুলনায় বেশি চুল পড়ে থাকছে। বিষয়টি দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কতগুলো চুল ঝরছে সেটিই মূল বিষয় নয়; বরং চুল পড়ার স্থায়িত্ব ও মাথার চুল পাতলা হয়ে আসছে কি না, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঋতু পরিবর্তনে কেন চুল পড়তে পারে?
প্রতিটি চুলের গোড়ায় থাকা ফলিকলের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র রয়েছে। এই চক্রে চুল বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্রামের একটি পর্যায়ও থাকে। এরপর পুরোনো চুল ঝরে গিয়ে নতুন চুল গজানোর সুযোগ তৈরি হয়। দিনের আলো ও ঋতুর পরিবর্তনের প্রভাবে কিছু ফলিকল একই সময়ে বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এর ফলে কয়েক মাস পর তুলনামূলকভাবে বেশি চুল একসঙ্গে ঝরে পড়তে দেখা যায়।
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও ক্রাউন-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মায়াঙ্ক সিংয়ের মতে, ঋতুভিত্তিক চুল পড়া সাধারণত সাময়িক। কয়েক মাসের মধ্যে এই সমস্যা অনেক সময় নিজে থেকেই কমে যায়। তাই চিরুনি বা বালিশে কিছুটা বেশি চুল দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
তবে ঋতু পরিবর্তনজনিত চুল পড়ার সঙ্গে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম-এর কিছুটা মিল থাকতে পারে। শারীরিক বা মানসিক চাপের পর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল একসঙ্গে ঝরে পড়াকে এই সমস্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়।
টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—
- দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
- কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা উচ্চ জ্বর
- দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত কড়াকড়ি ডায়েট
- সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়
- নতুন কোনো ওষুধ সেবন শুরু করা
- বড় ধরনের শারীরিক চাপ বা অসুস্থতা
এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত চুল পড়ার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। গোসল বা চুল আঁচড়ানোর সময় একসঙ্গে অনেক চুল উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি মাথার সিঁথি বা কপালের পাশের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়াও চোখে পড়তে পারে।
কোন লক্ষণে বুঝবেন চুল পড়া স্বাভাবিক নয়?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ মৌসুমি চুল পড়া ধরে না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো—
- তিন মাসের বেশি সময় ধরে চুল পড়তে থাকা।
- মাথার নির্দিষ্ট কোনো অংশে চুল কমে যাওয়া।
- আগের তুলনায় মাথার ত্বক বেশি দৃশ্যমান হওয়া।
- পুরো মাথার চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
- অস্বাভাবিক মাত্রায় চুল ঝরে পড়া।
- কোনো অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা বড় ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের পর চুল পড়া শুরু হওয়া।
চুল পড়া অনেক সময় শরীরের ভেতরের অন্য কোনো সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, আয়রনের ঘাটতি কিংবা বংশগত কারণে চুল পড়ার মতো বিভিন্ন কারণেও চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা চলতে থাকলে শুধু নতুন শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করে অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমে গেলে বা নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পড়ে যেতে থাকলে কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

