Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

৩ মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

৩ মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

ফাইল ছবি

Advertisement

বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত নির্দেশনা সম্বলিত হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট দুই বিচারপতির স্বাক্ষর শেষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রায়টি আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পায়।

রায়ে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সুপ্রিমকোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিমকোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্টার এ রায় প্রকাশ করেছেন।

রায়ে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রিটের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এ রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিমকোর্টের উপর ন্যস্ত থাকবে; রাষ্ট্রপতির উপর নয়। আদালত পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ রায়ে।

রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করেছেন হাইকোর্ট।১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসার, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংঙ্খলাবিধান সুপ্রিমকোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিমকোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়।

১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো।

সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের নজির অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সে রকম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিভাইভ (পুনরুজ্জীবিত) ও সংবিধানে পুনর্বহাল হবে। এই আদালতের রায়ের দিন থেকে এটি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী রিট করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রুল দেন। রুলে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং এ-সংক্রান্ত ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় কেন প্রতিষ্ঠা করা হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয় রুলে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রুলের শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন সেই বিচারপতি মান্নান

বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন সেই বিচারপতি মান্নান

শপথ নিলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

শপথ নিলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি

আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি

ফেসবুকে বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ প্রমাণিত, সহকারী রেজিস্ট্রার চাকরিচ্যুত

ফেসবুকে বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ প্রমাণিত, সহকারী রেজিস্ট্রার চাকরিচ্যুত

বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের যাচ্ছে সরকারের হাতে

বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের যাচ্ছে সরকারের হাতে

৪ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন

৪ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন

আরও পড়ুন

দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সুখবর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সুখবর

মডেল মসজিদে যুক্ত হলো খতিবের পদ, সম্মানী বাড়ল ইমাম-মুয়াজ্জিনের

মডেল মসজিদে যুক্ত হলো খতিবের পদ, সম্মানী বাড়ল ইমাম-মুয়াজ্জিনের

বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম