Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

অডিটে বেরিয়ে এলো মালা খানের থলের বিড়াল

Advertisement

জাহিদ হাসান

জাহিদ হাসান

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

অডিটে বেরিয়ে এলো মালা খানের থলের বিড়াল

মালা খান। ফাইল ছবি

Advertisement

যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এবং নামের পাশে জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্ত করা ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি নিয়েই বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের (বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন মালা খান। আদালতের বারান্দায় তার ওই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াই ঝুলে রয়েছে প্রায় আট বছর ধরে। এর মাঝেই এবার সরাসরি এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি তুলল খোদ অডিট অধিদপ্তর।

অডিটের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা ছাড়াই তাকে নিয়োগ দেওয়ায় শুধু বেতন-ভাতা বাবদই সরকারের ১ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন খাতে আরও প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকাসহ ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার গুরুতর আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কমপ্লায়েন্স অডিটে এ আপত্তি উত্থাপন করা হয়। এ বছর ২৮ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিআরআইসিএমের কার্যক্রমের ওপর করা অডিটে মোট ১৩টি আপত্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি গুরুতর আর্থিক অনিয়ম (এসএফআই) এবং ৭টি সাধারণ আর্থিক অনিয়ম (নন-এসএফআই)।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের শর্ত ছিল বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রির পাশাপাশি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৪ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা ও বিশেষ অবদান। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাছাই কমিটির সভায় মালা খানের প্রয়োজনীয় গবেষণা অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রমাণ না থাকায় তার আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে জানা যায়, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পিএইচডি করেছেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত নয়। এরপর তার আবেদন পুনর্বহাল করা হলে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট বিসিএসআইআরের ডিপিসি-১ তাকে তৎকালীন ডিআরআইসিএমের (বর্তমান বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে সুপারিশ করে। তবে বিসিএসআইআর বোর্ডের ২৮৬তম সভায় এই সুপারিশ নাকচ করে দেওয়া হয়।

বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মালা খান এবং পক্ষে রায় পান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন। কিন্তু আট বছর পার হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হলেও মালা খান ২০১৭ সাল থেকে আজও (প্রায় ৯ বছর) অবৈধভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন। নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি মালা খানের নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। কিন্তু তিনি খুব চতুরতার সঙ্গে ২০১৭ সালের অমীমাংসিত মামলাকে সামনে রেখে সাময়িক বরখাস্তের বিপরীতে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।

বিআরআইসিএম সূত্র জানায়, ২০২২ সালে একটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে মালা খানকে দ্বিতীয়বার বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু রিট পিটিশনের মাধ্যমে সেই আদেশের ওপরও স্থগিতাদেশ বাগিয়ে নেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, বছরে মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, বছরে মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা

কাজী মেহেদী হাসানের যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ

কাজী মেহেদী হাসানের যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ

দেশে পৌঁছেছে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ

দেশে পৌঁছেছে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেনীর আনোয়ারের পিএইচডি অর্জন

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেনীর আনোয়ারের পিএইচডি অর্জন

ফিনল্যান্ডে পিএইচডি করলেই মেলে টুপি ও তরবারি, কারণ কী

ফিনল্যান্ডে পিএইচডি করলেই মেলে টুপি ও তরবারি, কারণ কী

ঢাবির পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ

ঢাবির পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ

আরও পড়ুন

ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক ধ্বংস শাখার পুলিশ সদস্য ৩ দিনের রিমান্ডে

মাদক ধ্বংস শাখার পুলিশ সদস্য ৩ দিনের রিমান্ডে

ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৩৬

ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৩৬

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: হুমায়ুন ক‌বির

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: হুমায়ুন ক‌বির

অডিটে বেরিয়ে এলো মালা খানের থলের বিড়াল

অডিটে বেরিয়ে এলো মালা খানের থলের বিড়াল

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম