পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
বাইরের কোনো চাপে বোয়িং কেনা হয়নি, লুকানো এজেন্ডা নেই
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাইরের কোনো চাপের মুখে বোয়িং কেনা হয়নি। এখানে কোনো লুকানো এজেন্ডা নেই। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের যাত্রী-চাহিদা এবং এর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই বহর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত সচিব একেএম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বোয়িং একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কেনা হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের দেশের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি।’
তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব তৈরি করতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। বিমানের বহর আরও বাড়ানো দরকার। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আরও বোয়িং কিনব। যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব তৈরির জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ ও সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন সরকারের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি ছিল প্রথম অংশগ্রহণ।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এবারের অধিবেশন দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছিল।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল; নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন; সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
অধিবেশনে তিনি দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট পুনরায় চালু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে একটি কারিগরি মূল্যায়ন বা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে রুটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল এবং সরকার এখন এটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলের নেতার অভিযোগ নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাতিসংঘে কোথায় দলীয় কথা বলা হয়েছে? না বুঝে, না পড়ে, না শুনে মন্তব্য করা ঠিক না। দায়িত্ববোধ নিয়ে কথা বলা উচিত।’
