এয়ারপডস ফাইভ কিনতে চান? নতুন কী সুবিধা এতে
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যাপলের নতুন এয়ারপডস ফাইভ বাজারে আসার পর অনেকেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এটি। আগের মডেলের তুলনায় কিছু উন্নতি আনা হয়েছে এই মডেলটিতে।
এন্ট্রি-লেভেল সংস্করণেই রয়েছে অ্যাক্টিব নয়েজ ক্যান্সেলেশন, উন্নত পানি ও ধুলা প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং ব্যাটারি ব্যবহারে কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে।
তবে এসব সুবিধা কি সত্যিই আগের এয়ারপডস থেকে নতুন মডেলে যাওয়ার মতো যথেষ্ট? বিশেষ করে যাদের কাছে অ্যাক্টিব নয়েজ ক্যান্সেলেশনসহ এয়ারপডস ফোর রয়েছে, তাদের জন্য নতুন করে এয়ারপডস ফাইভ কেনার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি।
এয়ারপডস ফোর থেকে বড় পরিবর্তন নেই
এয়ারপডস ফাইভ ও এয়ারপডস ফোর দুই মডেলেই রয়েছে অ্যাপেলের এইচ২ চিপস ও ব্লুটুথ ৫.৩। ফলে পারফরম্যান্স ও কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়ার সম্ভারনা কম।
তবে অ্যাক্টিব নয়েজ ক্যান্সেলেশনের ক্ষেত্রে এয়ারপডস ফাইভ কিছুটা এগিয়ে। অ্যাপেলের দাবি, অ্যাক্টিব নয়েজ ক্যান্সেলেশনসহ এয়ারপডস ফোরের তুলনায় মডেলে ১.৫ গুণ বেশি নয়েজ ক্যান্সেলেশন পাওয়া যায়।
এ ছাড়া এয়ারপডস ফাইভে রয়েছে আইপি৫৭ রেটিং, যেখানে এয়ারপডস ফোরে ছিল আইপি৫৪। অর্থাৎ নতুন মডেলটি ধুলা ও পানির বিরুদ্ধে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।
তবে মূল ডিজাইন ও ড্রাইবারে বড় পরিবর্তন না থাকায় শব্দের মান বা কানে ফিট হওয়ার অভিজ্ঞতায় খুব বড় পার্থক্য পাওয়া নাও যেতে পারে।
অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন থাকলেও সব শব্দ বন্ধ হবে না
এয়ারপডস ফাইভে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন উন্নত হলেও এর ওপেন-ইয়ার ডিজাইনের কারণে বাইরের শব্দ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সাউন্ডগাইস-এর পরীক্ষায় এয়ারপডস ফাইভ পারিপার্শ্বিক শব্দ প্রায় ৫৯ শতাংশ কমাতে পেরেছে। তবে প্রায় ৫০০ এইচজেড-এর নিচের কম-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ দমন তুলনামূলক কঠিন বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে। ফলে গাড়ি বা বিমানের ইঞ্জিনের গর্জনের মতো শব্দ পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।
কাছাকাছি মানুষের কথাবার্তা বা অফিসের পরিবেশের শব্দও কিছুটা শোনা যেতে পারে। যারা বেশি শক্তিশালী নয়েজ আইসোলেশন চান, তাদের জন্য সিলিকন ইয়ার টিপসযুক্ত এয়ারপডস প্রো ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ও শ্রবণ-সংক্রান্ত সব সুবিধা নেই
অ্যাপেলের এয়ারপডস সিরিজে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য, শ্রবণশক্তি ও অ্যাক্সেসিবিলিটি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। তবে সব ফিচার সব মডেলে পাওয়া যায় না।
এয়ারপডস প্রো-এর কিছু স্বাস্থ্য ও শ্রবণ-সংক্রান্ত সুবিধা এয়ারপডস ৫-এ নেই। বিশেষ করে যারা শ্রবণ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক ফিচারকে গুরুত্ব দেন, তাদের কেনার আগে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
ব্যাটারি লাইফেও বড় উন্নতি নেই
ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এয়ারপডস ফাইভে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন চালু থাকলে সাধারণ সংস্করণে একবার চার্জে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পর্যন্ত অডিও শোনা যায়। ওয়্যারলেস চার্জিং কেসসহ সংস্করণে এই সময় সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে যারা একবার চার্জে দীর্ঘসময় ব্যবহারের সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ওয়্যারলেস ইয়ারবাড তুলনামূলক বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারে।
তাহলে এয়ারপডস ফাইভ কাদের জন্য?
অ্যাপেল ওপেন-ইয়ার ডিজাইন পছন্দ করেন এবং এয়ারপডস প্রো-তে যেতে চান না-এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এয়ারপডস ফাইভ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন ও ধুলা-পানি প্রতিরোধের সুবিধা যারা চান, তাদের কাছে নতুন মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
যাদের কাছে ইতিমধ্যে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশনসহ এয়ারপডস ফোর রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আপগ্রেডের বিষয়টি ভালোভাবে ভাবা দরকার। কারণ এইচ২ চিপ, ব্লুটুথ ৫.৩, মূল ডিজাইন ও বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে দুই মডেলের মধ্যে মিল রয়েছে।
