শিল্পে গ্যাস সরবরাহে উন্নতিতে স্বস্তি
নভেম্বরে বাটেক্সপো আয়োজন করবে বিজিএমইএ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: বাটেক্সপো-২০২৬ এর লোগো উন্মোচন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে এ সময় কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব তিন-চার মাস পর বোঝা যাবে। একই সঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে এখন কোনো কারখানা বন্ধ হলে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, নানা কারণে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে ১৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। অপরদিকে একই সময়ে নতুন ৫৩টি কারখানা বিজিএমইএ’র সদস্যপদ নিয়েছে। এসব কারখানায় ২৪ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। কারখানা চালু বা বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে কোনো অভিঘাতের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তও একদিনে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের চলমান দায়-দায়িত্বসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডায়িং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসা সহজ করতে কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। আক্ষেপ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের চেষ্টা আছে। তবে উদ্যোগের সুফল খুব একটা পেয়েছি তা বলা যাবে না। বর্তমানে একটা গার্মেন্ট করতে ২১টা লাইসেন্স নিতে হয়। এটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করে। রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার বাইরে থাকা বাজারগুলো থেকে, যা উদ্বেগজনক। নতুন বাজার সম্প্রসারণে বিজিএমইএ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
১৮-১৯ নভেম্বর বাটেক্সপো শুরু : দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাটেক্সপোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোড শো, হংকং ২০২৬’ আয়োজন করবে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ।
জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু হচ্ছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে ভাষাগত যোগাযোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই এ ডেস্কে জাপানি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ডেস্কের উদ্বোধন করবেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। এর মাধ্যমে জাপানে রপ্তানি আগামীতে ২ বিলিয়ন বা আড়াই বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি।
