শাটডাউন ধর্মঘটে স্থবির চুয়েট
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়েট উপাচার্যের পুনর্বহাল দাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রোববারও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। এছাড়া এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে অচল হয়ে পড়েছে গোটা ক্যাম্পাস।
অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে আছি, শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন তারা যেন তাদের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এ চলমান সমস্যার সমাধান করে।’
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চালবে।’
এদিন প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা ও পথনাট্য কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘৫৬?’ লেখা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন তারা। পরবর্তীতে ‘৫৬?’ লেখা প্রশ্ন নিয়ে নানা স্লোগানে মিছিল করেন। এরপর বেলা ৩টায় শুরু হয় পথনাট্য। এতে মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে পরিবর্তন এবং নতুন উপাচার্যের অনলাইনে যোগদানের ঘটনাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া গত ছয় দিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ পথনাট্যে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের উপাচার্যের দায়িত্বকালীন সময়ে চুয়েটের আধুনিকায়নে নেওয়া ১২টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা করিম সোহা বলেন, ‘মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে আমাদের ভিসিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ ছয় দিন ধরে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের প্রশ্ন-এটা আর কত দিন চলবে?’
এদিকে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ অধ্যাপক। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের এসব অধ্যাপক চিঠিতে ড. সায়েমের সঙ্গে তাদের গবেষণা, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজ রহমান, অস্ট্রেলিয়ার মার্ডক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক জিএম শফিউল্লাহ, নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব এগডারের অধ্যাপক সৌমেন রুদ্র, যুক্তরাজ্যের এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপম দাস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ রবিউল হোসাইন, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রশান্ত দত্ত ও অধ্যাপক নন্দিতা বিশ্বাস, স্কটল্যান্ডের রবার্ট গর্ডন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মামদুদ হোসাইন, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক মাসুদ খান, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হুদা এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের ডিন অধ্যাপক আমান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন উটাহ ইউনিভার্সিটির ড. মো. আবদুস সালাম সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি লিখে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
