সাপের কামড়ে রাবি শিক্ষার্থী আইসিইউতে
প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ কয়েক দফা দাবি জানান। আহত নূরনবী ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম বলেন, শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত আছেন। তবে সতর্কতা হিসাবে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে তারা হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ও হল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ওই হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) আশিকুর রহমান ওরফে সোহাগ বলেন, ‘হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে। ড্রেন দিয়ে সাপ হলে প্রবেশ করে। হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে।’ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘হলে এর আগেও শিক্ষার্থীর মশারির ওপরে বিষধর সাপ দেখা গেছে। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান আশিক বলেন, ‘আমাদের হলের চারপাশের অবস্থা এমন যে বসবাস করা অনুপযোগী।’
আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এসএম সালমান সাব্বিরসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা। ভিপি মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
হল সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে বিছানায় ঘুমাচ্ছিলেন নূরনবী ইসলাম। এ সময় একটি সাপ বিছানায় উঠে তার পায়ে কামড় দেয়। সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক শামীম আহমেদ বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ সাপ দংশন করেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার পর ওই কক্ষ থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা পাতি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
