Logo
Logo
×

Advertisement

ভারত

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ পিএম

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীদলীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’। আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে সমাবেশের পর নভেম্বরের শুরুতেই আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ধারাবাহিক মিছিলের পর নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বিরোধী নেতারা। আন্দোলন আরও জোরদার করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, ‘এ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে আমাদের মিছিলগুলো রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ায় কয়েকজন নেতা আবারও ব্যাপক জনসমাগমের পক্ষে মত দিয়েছেন। আরেকটি প্রস্তাব হলো, একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজন করা, যেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া দেখানো হবে। এ ছাড়া আরও কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব এসেছে।’

কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্মসূচি নির্ধারণের কাজ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের মিছিল করে বিরোধী দলগুলো। এসব কর্মসূচিতে হাজার হাজার দলীয় কর্মী, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এগুলোকে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর অন্যতম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপির সঙ্গে বিরোধীদের নতুন করে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়।

গত ৯ অক্টোবর বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবি জানান।

একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি তোলেন তারা।

জবাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিরোধীদের কাছে ভোট চুরির অভিযোগের প্রমাণ চান।

এরপর ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন বিরোধী নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ অন্যান্য নেতাও এতে অংশ নেন।

আবেদনে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের (এসআইআর) সময় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার একতরফা ও স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।

তারা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার দাবি জানান, যাতে সংবিধানস্বীকৃত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

আবেদনে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

তবে আবেদনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, এসআইআরের বৈধতা নিয়ে সামগ্রিকভাবে নতুন করে বিচার শুরু করার দাবি তারা জানাচ্ছেন না।

 

সামনে যেসব কর্মসূচি

আগামী ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের অন্যান্য দল। তবে নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার কারণে আন্দোলনে যে বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে আবারও গতি ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।

প্রতীকী সংসদ আয়োজনের পরিকল্পনা সম্পর্কে এম এ বেবি বলেন, ‘আমরা বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানাব। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসনের উদ্দেশ্যে একটি প্রতীকী বিচার আয়োজন করা হবে। একজন তার পক্ষে অবস্থান নিয়েও যুক্তি তুলে ধরবেন। তবে পুরো আয়োজনের উদ্দেশ্য হবে, বিভিন্ন অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে দায়ী, তা তুলে ধরা।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিরোধী জোটের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নেওয়া হবে। কোনো দল এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেবে না।

আন্দোলনের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তদারক করতে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার প্রতিবাদে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাহুলের বক্তব্য, ‘সব আন্দোলনই এক।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: দিল্লির বিক্ষোভ


আরও পড়ুন

সম্পর্কিত খবর

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

‘মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, ঝোলা গোছানোর সময় হয়ে গিয়েছে’

‘মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, ঝোলা গোছানোর সময় হয়ে গিয়েছে’

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের পরীক্ষা, কংগ্রেসের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের পরীক্ষা, কংগ্রেসের লড়াই

মুক্তির পরই সিজেপি নেতাদের তলব করল পুলিশ

মুক্তির পরই সিজেপি নেতাদের তলব করল পুলিশ

যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ না করার প্রতিশ্রুতি সিজেপির ২ নেতার

যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ না করার প্রতিশ্রুতি সিজেপির ২ নেতার

আরও পড়ুন

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

‘মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, ঝোলা গোছানোর সময় হয়ে গিয়েছে’

‘মোদি সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, ঝোলা গোছানোর সময় হয়ে গিয়েছে’

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম