Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

৩৭ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে আড়ালে খামেনি, বিশ্বজুড়ে জল্পনা

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

৩৭ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে আড়ালে খামেনি, বিশ্বজুড়ে জল্পনা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মার্কিন হামলার হুমকির মুখে এবং পারস্য উপসাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক ঐতিহ্য ভেঙেছেন। 

১৯৮৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে খামেনি প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সঙ্গে বার্ষিক সাক্ষাতে মিলিত হতেন, এমনকি যা করোনা মহামারির সময়ও বজায় ছিল। কিন্তু এ বছর সেই নিয়মিত প্রথা ভেঙে খামেনির পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 

এই অনুপস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে খামেনি হয়তো সরাসরি জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তার কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীরভাবে ব্যস্ত রয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একদল বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পাহলভী রাজবংশের পতনে ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর এই বার্ষিক সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। তবে এবার খামেনির অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

বিশেষ করে জানুয়ারির শেষ দিকে আরব সাগরে মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ মোতায়েন এবং জর্ডানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন পাঠানোর ফলে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরান বারবার সতর্ক করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের জন্ম দেবে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে দুই দেশ আলোচনায় বসলেও, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মতবিরোধ এখনো কাটেনি। 

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে খামেনির মতো একজন শীর্ষ নেতার প্রথাগত অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিরক্ষা কৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির পাশাপাশি গোয়েন্দা ড্রোন ও নজরদারি বিমানের আনাগোনা তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমানে পরোক্ষ আলোচনা চললেও আস্থার সংকট প্রকট। 

খামেনির এই রহস্যময় অনুপস্থিতি ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে যেমন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, তেমনি বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন জানার বিষয় ইরান কি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে নাকি পর্দার আড়ালে নতুন কোনো কূটনৈতিক চাল চালছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম