মাঝরাতে ছদ্মবেশে রাস্তায় একা নারী পুলিশ, যা দেখলেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীদের জন্য রাতের শহর কতটা নিরাপদ, তা পরখ করতে নিজেই ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমেছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরি এলাকার পুলিশ কমিশনার সুমতি।
বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দিলসুখনগর বাসস্ট্যান্ডে একাকী দাঁড়িয়ে থেকে তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
মাত্র তিন ঘণ্টার এই অভিযানে প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাকে একা পেয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করে, যা জনসমক্ষে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার অবস্থাকেই তুলে ধরেছে।
আইপিএস অফিসার সুমতি যখন সাধারণ পোশাকে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন বিভিন্ন বয়সী ও পেশার পুরুষেরা তাকে ঘিরে ধরে। যাদের মধ্যে ছাত্র থেকে শুরু করে কর্মজীবী পুরুষও ছিল। ৫০ বছর বয়সী এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চিনতে না পেরে অনেকে মদ্যপ অবস্থায় অশালীন মন্তব্য করেন, অযাচিতভাবে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং বারবার তাকে উত্ত্যক্ত করেন।
দীর্ঘ তিন দশকে সমাজ কতটা বদলেছে তা দেখার জন্য এটি ছিল তার একটি পরীক্ষামূলক অভিযান। উল্লেখ্য, ২৫ বছর আগে কর্মজীবনের শুরুতে ডিএসপি হিসেবেও তিনি একইভাবে ছদ্মবেশে মাঠে নেমেছিলেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই অভিযানে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করার পরিবর্তে একটি ভিন্নধর্মী কৌশল গ্রহণ করে। হেনস্তাকারী প্রত্যেককে শনাক্ত করার পর তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে কোনো আইনি জটিলতা বা আটক করার চেয়ে বরং তাদের আচরণ পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের পরিবার ও পেশার কথা মাথায় রেখে তাদের কঠোরভাবে কাউন্সেলিং করা হয় এবং নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের ব্যাপারে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হায়দরাবাদের এই নারী পুলিশ কমিশনারের সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ সাধারণ মহলে প্রশংসিত হলেও, এই ঘটনা একটি রূঢ় সত্যকে আবারও সামনে এনেছে। একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার এই মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা প্রমাণ করেছে যে, আজও গভীর রাতে একজন নারীর একাকী পথচলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। আইনি কড়াকড়ির পাশাপাশি পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে নারী নিরাপত্তা যে কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এই ৩ ঘণ্টার বাস্তব চিত্রই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
সূত্র: এনডিটিভি।

