Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে অস্বস্তি

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে অস্বস্তি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা সম্ভব হয়নি। দপ্তর বণ্টন নিয়ে দলীয় অন্দরে টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণেই এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে আরও পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু এরপর কেটে গেছে প্রায় এক সপ্তাহ। এখনো রাজ্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।

বর্তমানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, পরিবহণ, সেচ ও জলপথসহ প্রায় ৪২টি দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকলে সরকারি কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবারও বাকি দপ্তর বণ্টনের সম্ভাবনা খুব কম। ফলে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকও মাত্র পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়েই করতে হতে পারে।

ইতোমধ্যে যেসব দপ্তর বণ্টন হয়েছে, তার মধ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। পৌর বিষয়ক এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া।

তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম চূড়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে।‌ কিন্তু মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিয়ে।

বিজেপির একাংশের দাবি, এই দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও সঙ্ঘের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারও কিছু পছন্দের নাম রয়েছে মন্ত্রীসভার জন্য।

অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে মন্ত্রী করতে চাইছেন। এই দুই পক্ষের টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে দাবি দলের একাংশের।

এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকাও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা পেয়েছেন, তাদের অনেককেই সঙ্ঘ পুরোপুরি নিজেদের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করছে না। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সঙ্ঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সঙ্ঘের নেতৃত্ব এখনও তাকে পুরোপুরি নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরের মানুষ হিসেবে দেখছে না বলে দাবি দলের একাংশের।

এ অবস্থায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসাতে চাইছে সঙ্ঘ। পূর্বাঞ্চলের সঙ্ঘ নেতৃত্বও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে নিজেদের মতামত পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

‌বিশেষ করে শিক্ষা দপ্তর নিয়ে মতভেদ সবচেয়ে বেশি। সঙ্ঘের একাংশ চাইছে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কোনো নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এমন কাউকে দায়িত্ব দিতে চান যিনি প্রশাসনিকভাবে দক্ষ এবং দপ্তর পরিচালনায় অভিজ্ঞ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ পরিস্থিতি বিজেপি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। কারণ সরকার গঠনের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ফাঁকা থাকার নজির পশ্চিমবঙ্গে খুব কমই রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দ্রুত দপ্তর বণ্টন না হলে উন্নয়নমূলক কাজ, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সরকারি প্রশাসনে প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বিজেপির এক বিধায়ক জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, দপ্তর বণ্টন ঘিরে যে টানাপোড়েন সামনে এসেছে, তা আগামী দিনে বিজেপির অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণ আরও স্পষ্ট করে দিতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম