Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

গঙ্গায় আমিষ বর্জ্য ফেলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল: ভারতীয় হাইকোর্ট

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

গঙ্গায় আমিষ বর্জ্য ফেলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল: ভারতীয় হাইকোর্ট

এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

গঙ্গা নদীতে আমিষ খাবারের বর্জ্য বা অবশিষ্টাংশ ফেলা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বারাণসীতে গঙ্গা নদীর বুকে একটি নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করে নদীতে মাংসের অবশিষ্টাংশ ফেলার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার সময় আদালত এই মন্তব্য করেন।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব লোচন শুক্লা গত শুক্রবার (১৫ মে) এই মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আজাদ আলী, মোহাম্মদ তাহসিম, নিহাল আফ্রিদি, মোহাম্মদ তৌসিফ আহমেদ এবং মোহাম্মদ আনাসকে জামিন মঞ্জুর করেন। একই মামলায় ওই দিনই বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার সিনহা আরও তিন অভিযুক্ত—মোহাম্মদ সমীর, মোহাম্মদ আহমদ রাজা এবং মোহাম্মদ ফয়জানকে জামিন দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে বারাণসীর গঙ্গা নদীতে একটি নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ইফতারের পর আমিষ খাবার গ্রহণ করেন এবং খাবারের অবশিষ্ট অংশ নদীতে ফেলে দেন। 

এই ঘটনার পর ১৬ মার্চ বিজেপির যুব মোর্চার বারাণসী শাখার সভাপতি রজত জয়সওয়াল একটি এফআইআর দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন ১৭ মার্চ পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে উপাসনালয় অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। 

এর আগে গত ১ এপ্রিল বারাণসীর একটি দায়রা আদালত সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার আশঙ্কায় অভিযুক্তদের জামিন আবেদন নাকচ করেছিল।

হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব লোচন শুক্লা তার আদেশে উল্লেখ করেন, একটি ইফতার পার্টিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য আমিষ খাবার খেয়ে তার অবশিষ্টাংশ গঙ্গা নদীতে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সপক্ষে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। 

তবে জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালত লক্ষ্য করেছে যে অভিযুক্তরা গত ১৭ মার্চ থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিবারও এই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো কাজ আর পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আদালত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানায়, যেহেতু অভিযুক্তদের পূর্বের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছুদিন কারাভোগ করেছেন এবং নিজেদের আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন, তাই প্রাথমিকভাবে তাদের জামিন মঞ্জুর করার মতো যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম