Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

কেন রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে?

Advertisement

Icon

বিবিসি বাংলা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

কেন রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে?

শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে 'অবাধ্যতার' অভিযোগে অভিযুক্ত কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

এ বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করে। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এসব গ্রেফতারের খবর সীমিত আকারে প্রচার হয়, তবে অনলাইনে এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা সামনে আসে।

উগ্র-ডানপন্থি সংগঠন ও চ্যানেলগুলোর কাছে এসব গ্রেফতার ছিল ক্রেমলিন-সমর্থিত স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অভিযানের সূচনা

রাশিয়ার বাইরে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলোর মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে 'আবাসিক ভবনে' গণউপাসনা নিষিদ্ধের নতুন বিতর্কিত আইনকে অনেকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কারা আটক হয়েছেন?

২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করেছে বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তাদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ১৪ মে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের সঙ্গে অবাধ্যতার অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোরতাঙ্গার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এফএসবি সংস্থা ১২ মে ধর্মযাজক ও বারর্দভিলের ডেপুটি আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও আটক করে।

রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদ সাইট লেন্তা ডট রু জানায়, মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকে ১৯ মে ঘুস চাওয়ার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দেওয়া হয়।

২৩ মে ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক কোমেরসান্ত বিচার বিভাগের প্রেস অফিস এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আটক ব্যক্তিদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে।

কোমেরসান্তের তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম কমিউনিটি অব দ্য নর্থওয়েস্ট নামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে তার এক আত্মীয় এবং রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ আহমদের সঙ্গে আটক করা হয়।

ওয়েবসাইটটি আরও চারজন আটক ব্যক্তির আদ্যক্ষর ও পদবি প্রকাশ করে, যাদের তাতারস্তান, মারমানস্ক ও পেট্রোজাভোদস্কের মুসলিম কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা এজেনস্তভো।

কেন তাদের আটক করা হয়েছিল?

এদের বিরুদ্ধে 'ঘুস' থেকে 'অবাধ্যতা' পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও কিছু ব্লগার ও কিছু গণমাধ্যম আরও গুরুতর অভিযোগও তুলেছে।

কোমেরসান্তের দাবি, ২৩ মে তারা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দেখেছে, যেখানে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রভাবশালী প্রচারক রুসলান অস্তাশকোও এই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেন এবং আলেমদের নতুন পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে দেখান যারা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।

তিনি হুমকির সুরে বলেন, প্রশ্নটি বাড়ছে- এটি কি একটি ধর্মীয় কাঠামো, নাকি বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক?

প্রত্যাশিতভাবেই, উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেলগুলো এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানায় এবং ডিইউএম-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযানের সম্ভাবনায় স্পষ্ট উত্তেজনা প্রকাশ করে।

১৯ মে উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেল সন্স অব মনার্কি লিখেছে, সাহসী রুশ নিরাপত্তা বাহিনী অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, যারা রাশিয়ায় ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিভেদ উসকে দিচ্ছে।

তারা আরও লিখেছে, আমি আশা করি এটি কেবল শুরু!

২১ মে ব্লগার ইউরি বারানচুকের একটি বিশেষভাবে অবমাননাকর পোস্টে বলা হয়, এই চরমপন্থিরা, যারা ধীরে ধীরে 'হালালাইজেশন' এবং অর্থোডক্স রাশিয়াকে 'আড়াল' করার পক্ষে, তারা অনেক দিন ধরেই জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল... মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের কেউ হঠাৎ এই হুমকির মাত্রা ও ব্যাপ্তি বুঝতে পেরেছে।

দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন

মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলা সামনে আসে ২৯ মে। এটি ছিল ডিইউএম চেয়ারম্যান মুফতি রাভিল গনুতদিনের প্রথম ডেপুটি দামির মুখেতদিনভের বিরুদ্ধে, যিনি 'ঘৃণা বা শত্রুতা উসকে দেওয়ার' অভিযোগে অভিযুক্ত হন বলে জানায় ব্যবসায়িক দৈনিক আরবিসি।

তিন দিন পর ব্যবসায়িক সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি জানায়, 'মঙ্গোল-তাতার যুগ' শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের কারণে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার রুবল (প্রায় দুই হাজার ৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত মেসেঞ্জার অ্যাপ ম্যাক্সে মস্কো সিটি কোর্টস অব জেনারেল জুরিসডিকশনের প্রকাশিত একটি পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়।

চিত্রকর্মটি, যা গত বছর একটি সাক্ষাৎকারের সময় তার কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, এটি ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধকে চিত্রিত করে, যা পূর্ব ইউরোপে মঙ্গোলদের প্রথম আগ্রাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

এটি ব্লগার, কট্টর জাতীয়তাবাদী এবং এমনকি কিছু সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনা কুড়ায়। তাদের কেউ কেউ এই চিত্রকর্মকে 'রাশিয়া-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ ডিইউএম-কে 'চরমপন্থি' সংগঠন ঘোষণার দাবি তোলে।

মুখেতদিনভ প্রথমে নিজেকে 'রাশিয়া-বিরোধী' বলা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, ত্রয়োদশ শতকে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি রাষ্ট্র 'গোল্ডেন হোর্ড' ভূমি একত্রিত করা, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং বহুজাতিক ও বহু-ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। ২০২৫ সালে এই বিতর্ক প্রথম সামনে এলে তিনি ডিইউএম-এর ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেন, আমি এই চিত্রকর্মটি জনসমক্ষে থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এর জায়গায় মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের (নাজি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ) ঘটনাবলি তুলে ধরা একটি চিত্রকর্ম স্থাপন করা হবে।

আধুনিক রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মুখেতদিনভ রাষ্ট্রের ইতিহাস বর্ণনার একচেটিয়া ক্ষমতার নীতির বাইরে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়।

ক্ষমতায় থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পরিচয়কে একটি 'ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পরিসর'-এ সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন, যা তার দৃষ্টিতে স্লাভ জনগণের অংশ, এবং এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ান, ইউক্রেনীয় ও বেলারুশিয়ানদের মধ্যে পার্থক্য ঝাপসা হয়েছে।

এই 'স্লাভিক' ঐতিহ্যভিত্তিক ধারণা বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য পরিসর সীমিত করে এবং ইসলামবিরোধী এজেন্ডাসম্পন্ন উগ্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।

ডিইউএম কী বলছে?

আলেমদের গ্রেফতারের খবর মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস বা ডিইউএম প্রায় নীরব থেকেছে।

২১ মে ক্রেমলিনপন্থি ওয়েবসাইট লেন্তা ডট রু-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, তারা গণগ্রেফতার বা কোনো বিরোধী-মুসলিম প্রচারণার লক্ষণ দেখছে না।

অন্যদিকে, মর্ডোভিয়ার ডেপুটি মুফতি রাশিদ আব্দরাশিতভ ২০ মে এক বিবৃতিতে তার সহকর্মী রয়াল আসেনভের গ্রেফতারের পর এটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে অভিহিত করেন।

কয়েক সপ্তাহ পরে ডিইউএম-এর প্রধান রাভিল গাইনুতদিন অবশেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন।

৮ জুন তিনি বলেন, রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসকে চরমপন্থা, উগ্রবাদ, বিদেশি প্রভাব ও জাতিগত উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত বলে কিছু গণমাধ্যম ও ব্লগে যে দাবি করা হচ্ছে, আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি বলেন, ডিইউএম-কে চরমপন্থার কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা বিভাজন তৈরি করছে এবং বাহ্যিক প্রতিপক্ষের স্বার্থকে জোরদার করছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গনুতদিনের বিবৃতিতে গ্রেফতার, আটক বা প্রশাসনিক অভিযোগের কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি শুধু বলেছেন, সংগঠনটি ফেডারেল ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত।

এটি অস্বাভাবিক নয়, কারণ তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

দমন অভিযানের ইঙ্গিত

মে মাসের শুরুতে রাভিল গাইনুতদিন আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতবদ্ধ নামাজ কার্যত নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি বিলের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে আবেদন জানান।

এই বিলটি ২০২৪ সালে উত্থাপিত হয় এবং শাসক দলের বিশিষ্ট রাজনীতিক পিওতর তলস্তয়, জ্যেষ্ঠ এমপি সের্গেই মিরোনভ এবং এলডিপিআর নেতা লিওনিদ স্লুতস্কির সমর্থন পায়। নির্বাসিত পত্রিকা নোভায়া গাজেতা ১১ মার্চ পূর্বাভাস দিয়েছিল, এর মানে এবার বিলটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

৬ মে পুতিনের কাছে খোলা চিঠিতে গনুতদিন বলেন, এর মানে হলো কেবল নিবন্ধিত বাসিন্দারাই অ্যাপার্টমেন্টে নামাজ পড়তে পারবেন। এমনকি আপনি যদি আত্মীয় বা বন্ধুদের বাড়িতে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ পড়েন, তবুও আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

তিনি বলেন, এটি উপাসনার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং 'চরমপন্থা' উসকে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ বিলটি দেশে মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে, কারণ মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত উপাসনালয়ের ঘাটতি রয়েছে এবং নতুন মসজিদ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও উপাসনালয় নির্মাণের অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে।

নির্বাসিত গণমাধ্যম নোভায়া গাজেতা ইউরোপা বলেছে, বিলটিতে 'অভিবাসীবিরোধী প্রবণতা' রয়েছে এবং ২০২৩ সালে দেশজুড়ে মুসলিম উপাসনালয়ে চালানো একাধিক 'অভিযান'-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে সন্দেহভাজন অভিবাসীদের প্রায়ই ধরে নিয়ে সরাসরি সামরিক নিবন্ধন ও নিয়োগ অফিসে পাঠানো হয়

২২ মে নির্বাসিত চ্যানেল দুঝদ টিভির উপস্থাপক মিখাইল ফিশম্যান গাইনুতদিনের প্রতিবাদপত্র এবং পরবর্তী গ্রেফতারের মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন।

ক্রেমলিন ও মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্ক

রাশিয়ায় দুই কোটিরও বেশি মুসলিম বাস করে, যা ইউরোপের মধ্যে বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা এবং তাদের অধিকাংশই দেশটির উত্তর ককেশাস ও ভলগা অঞ্চলে বাস করে।

মনে হয় প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রয়োজন অনুযায়ী এই জনতাত্ত্বিক বাস্তবতা ব্যবহার করেন, যেমন সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা বা ২০২৬ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে 'বিশিষ্ট অতিথি'দের অভ্যর্থনার সময়। তবে ক্রেমলিন ও মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্ক বরাবরই জটিল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যে বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধগুলো শুরু হয়, তার পর পুতিন রাশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতন্ত্রগুলোতে শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভের মতো অনুগত নেতৃত্ব নিয়োগের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় সম্প্রীতির ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, রাশিয়ার মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন ডিইউএম) ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বস্তুগত ও মতাদর্শগত সমর্থন দিয়েছে। একই সময়ে, পুতিনের যুদ্ধের দৃঢ় সমর্থকেরা ক্রমে 'অর্থোডক্স রাশিয়া'র একক ধারণায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে উঠছে।

২১শে মে স্বাধীন সংস্থা দক্সাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসলামি বিশারদ বলেন, ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব আগে থেকেই ছিল, কিন্তু যুদ্ধ একটি স্পষ্ট মোড় পরিবর্তন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

অতীতে রাশিয়ায় ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মূল্য ছিল রাজনৈতিক আনুগত্য। নির্বাসিত নোভায়া গাজেতা ইউরোপার মতে, সাম্প্রতিক গ্রেফতারের ঢেউ এই প্রশ্ন উত্থাপন করছে - সেই আনুগত্য এখনো যথেষ্ট কি না।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা

যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা

মাত্র ছয় সপ্তাহে বিশাল ড্রোন ঘাঁটি বানাল রাশিয়া, শঙ্কায় ইউরোপ

মাত্র ছয় সপ্তাহে বিশাল ড্রোন ঘাঁটি বানাল রাশিয়া, শঙ্কায় ইউরোপ

ল্যান্ডফোনের যুগে ফিরে গেছে রাশিয়া

ল্যান্ডফোনের যুগে ফিরে গেছে রাশিয়া

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিককে গ্রেফতার করল রাশিয়া

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিককে গ্রেফতার করল রাশিয়া

কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা, নিহত ২

কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা, নিহত ২

বুলগেরিয়ার উপকূলে ফের ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক

বুলগেরিয়ার উপকূলে ফের ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক

আরও পড়ুন

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা হুথিদের

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা হুথিদের

বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

বুরকিনা ফাসোতে সুন্দরী প্রতিযোগিতার বদলে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা

বুরকিনা ফাসোতে সুন্দরী প্রতিযোগিতার বদলে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে অনড় প্রধানমন্ত্রী

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে অনড় প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম