Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম

হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির

হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব।  বিভিন্ন ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। 

ধারণা করা হচ্ছে, লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানির পথে হুথিদের বাধা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনেরও চেষ্টা করছে রিয়াদ।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথভাবে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।


ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধের ঘোষণা দেয়। তবে সব জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা তারা অস্বীকার করেছে।

হুথিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলেই তারাও সৌদি জাহাজের অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাদের মতে, এটি ইরানকে ঘিরে নয়; বরং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায় সৌদি আরব।

লোহিত সাগরে নিরাপত্তা জোটে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকেও আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামে একটি নৌ মিশন ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে।

গত ২৫ জুলাই হুথিরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের রপ্তানি বন্দরে যাওয়া তেল পরিবহণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, যদি লোহিত সাগরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশটির তেল রপ্তানি বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ইরান-সংকট শুরুর আগে সৌদি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হতো। বর্তমানে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে লোহিত সাগরপথে রপ্তানির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।

গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে বিমান হামলা চালায়। একই সময়ে লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক এক মাসে সেই উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম